আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার নমাজ চলাকালীন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। একটি মসজিদে এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যে ৩১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহতের সংখ্যা ১৬৯ পার করেছে।


পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর অনুসারে, মসজিদে শুক্রবারের নমাজ চলছিল। সেখানে হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই মারা যান ১৫ জন। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কী ধরণের বিস্ফোরণ তা এখনও জানা যায়নি। মসজিদের মধ্যে প্রার্থনা চলাকালীন এই বিস্ফোরণ ঘটে।


পাক পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে কারা এই ঘটনার পিছনে জড়িত তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিস্ফোরণের জেরে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার জেরে ওই এলাকাজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সেখানে কোনও বাইরের লোকের আনাগোনা বন্ধ করা হয়েছে।

 প্রতিটি গাড়িতে চলছে তল্লাশি অভিযান। বিগত ছয় মাসের মধ্যে এই ধরণের ঘটনা পাকিস্তানের মাটিতে দ্বিতীয়বার ঘটল। সেবারে বিস্ফোরণের জেরে ১২ জনের মৃত্যু এবং ২৫ জন আহত হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত যা খবর মিলেছে তাতে এটি একটি আত্মঘাতী হামলার ঘটনা। ফলে এর পিছনে কোন জঙ্গি সংগঠন রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও কোনও জঙ্গি সংগঠন এর দায় স্বীকার করেনি। মসজিদের সামনে থাকা একটি গাড়ি পার্ক করে রাখা ছিল। সেই গাড়িতে করেই এসেছিল জঙ্গিরা।


শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরই গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে মানুষ চারিদিকে ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা প্রায় ৬ কিলোমিটার দূর থেকেই বোঝা যায়। 


তবে এতকিছুর পরও পাকিস্তান রয়েছে নিজের মতো করেই। এই ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানিয়েছেন এটির পিছনে তারা আফগানিস্তানের হাত রয়েছে বলেই মনে করেন। একটি বিবৃতি দিতে তিনি বলেন, পাকিস্তান সর্বত্র যুদ্ধের পরিস্তিতির সঙ্গেই রয়েছে। বালুচিস্তানের ঘটনা তারই প্রমাণ। তবে পাকিস্তান সেনা সতর্ক রয়েছে। তারা সব ধরণের পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে তৈরি। 


যদিও আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে এই ধরণের বিস্ফোরণের পিছনে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনই যুক্ত রয়েছে। তবে শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে গিয়ে পাক সরকার এমন কথা বলছে। এই ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে তা না জানার ফলেই বিষয়টি এখনও সকলের কাছে স্পষ্ট নয়।