আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ভারতের উপরেও খাঁড়া ঝুলছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ইরানের তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে আমেরিকা। এরপরেই ভারতীয় সংশোধনাগারগুলি ইরানের তেল কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শনিবার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সঙ্কট নিরসনে ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো ইরানি তেল কেনা পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা করছে। 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে ভারতের তিনটি তেল শোধনাগারের সূত্রকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, তারা ইরানের তেল কিনতে আগ্রহী। তেলের টাকা পরিশোধের মতো বিষয়ে সরকার কী নির্দেশ দেয়, তার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। এশিয়ার অন্যান্য দেশের শোধনাগারগুলোও এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে।

শুক্রবার ইরানের তেলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, বিশ্বের জ্বালানি সঙ্কট এবং দাম বৃদ্ধিকে প্রশমিত করতে ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা তোলা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর সময় রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল আমেরিকা। সেই ছাড়ও ৩০ দিনের। মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক ভাবে প্রত্যাহার করা হচ্ছে কেবল সেই সব তেলের ক্ষেত্রেই, যা সমুদ্রপথে রয়েছে।  যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আমেরিকা সাময়িকভাবে তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল।

অন্যান্য বড় এশীয় তেল আমদানিকারক দেশগুলির তুলনায় ভারতে অপরিশোধিত তেলের মজুত অনেক কম। সম্প্রতি আমেরিকা সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর দেশের তেল শোধনাগারগুলি রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। সূত্রের খবর, অন্যান্য এশীয় শোধনাগারগুলি তেলটি কিনতে পারবে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কেপলারের অপরিশোধিত তেল বাজার তথ্যের সিনিয়র ম্যানেজার ইমানুয়েল বেলোস্ট্রিনো বলেছেন, প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে রয়েছে, যা পশ্চিম এশিয়ার উপসাগর থেকে চীনের নিকটবর্তী জলসীমা পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা জাহাজগুলিতে আছে। কনসালটেন্সি এনার্জি অ্যাসপেক্টস ১৯ মার্চ অনুমান করেছে যে, সমুদ্রে ১৩ থেকে ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল রয়েছে, যা পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান উৎপাদন ক্ষতির ১৪ দিনেরও কম সময়ের সমান। 

এশিয়া তার অপরিশোধিত তেলের সরবরাহের ৬০ শতাংশের জন্য পশ্চিম এশিয়ার উপর নির্ভরশীল এবং এই মাসে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের শোধনাগারগুলি উৎপাদন হার কমাতে এবং জ্বালানি রপ্তানি কমাতে বাধ্য হচ্ছে। ট্রাম্প ২০১৮ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে দেশটির উপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এরপর থেকে চীন ইরানের প্রধান গ্রাহকে পরিণত হয়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার কারণে বেশিরভাগ দেশ এই অপরিশোধিত তেল বর্জন করায় ব্যাপক ছাড়ের আকর্ষণে চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলি গত বছর প্রতিদিন ১৩.৮ লক্ষ ব্যারেল (বিপিডি) তেল কিনেছে।