আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের জেরে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা ও সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় পশ্চিম এশিয়া জুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্থিরতা। ২৮ ফেব্রুয়ারির ভোরে শুরু হওয়া এই অভিযানের পর পাল্টা হামলা চালায় ইরান। দুবাই, দোহা, বাহরিন ও কুয়েত-সহ একাধিক স্থানে হামলার খবর সামনে আসে। পরিস্থিতির জেরে বহু দেশের বিমানবন্দর ও আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েন। 

এই প্রেক্ষাপটে দোহায় আটকে পড়া এক ভারতীয় যাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন এবং ব্যবস্থাপনার জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন কাতার বিমানসংস্থার এবং হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। রবিবার, ১ মার্চ, তাঁর এক্স পোস্টে তিনি জানান, চলতি সংঘাত সত্ত্বেও বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের পাশে থেকেছে। 

">  

যাত্রীটির বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে উপস্থিত সকল যাত্রীর হাতে খাবারের কুপন তুলে দেওয়া হয়, যা ফুড কোর্টে ব্যবহার করা যায়। “সব মিলের জন্যই কুপন দেওয়া হয়েছিল,” বলে তিনি জানান। রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি লেখেন, রাত সাড়ে দশটা নাগাদ তাঁরা লাউঞ্জে বিশ্রাম নিতে যান। পুরো বিমানবন্দর খালি করা হচ্ছিল বলে, রাত সাড়ে বারোটায় লাউঞ্জ কর্মীরা তাঁদের ডেকে তুলে ট্রান্সফার ডেস্কে যেতে বলেন। সব কিছু খুব মসৃণভাবে সামলানো হয়েছে বলে যাত্রীর দাবি। 

তাঁর কথায়, “প্রতিটি কর্মী গুরুত্বসহকারে সমস্ত দিক সামলাচ্ছিলেন। হাসিমুখে সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। উত্তর না থাকলেও আমাদের খুব আরামে রেখেছিলেন।”  পরে যাত্রীদের দোহায় বিভিন্ন পাঁচতারা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয় এবং খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়। হোটেল কর্মীদেরও তিনি সহানুভূতিশীল বলে উল্লেখ করেন। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পোস্ট ঘিরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ঢল নামে। এক ব্যবহারকারী লেখেন, “এমন সংবেদনশীলতা শুনে ভাল লাগল। এই যুগে এমন মানবিক আচরণ অনেক বড় বিষয়। নিরাপদে বাড়ি ফিরুন।” অন্য এক ব্যক্তি বলেন, “এমন অস্থির সময়ে এমন ভাল কাজ করছে, এটা শুনে ভাল লাগছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও সক্রিয় হওয়া উচিত, কারণ অনেকেই তথ্যের জন্য অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে ভিড় করছেন, আর নীরবতার সুযোগে অনেকের ভুল ধারণা হচ্ছে।” আবার কেউ কেউ অন্য অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। এক যাত্রী দাবি করেন, হোটেল ভাউচার পেতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত না পেয়ে তাঁকে নিজ খরচে হোটেলে থাকতে হয়েছে। 

পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে হাজারও যাত্রীর অনিশ্চয়তার মধ্যে এই অভিজ্ঞতা এক মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে। যদিও সব যাত্রীর অভিজ্ঞতা একরকম নয়, তবুও সংকটকালে যাত্রীসেবার মান ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংঘাত অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা এখনও অনিশ্চয়তার মুখে। তবে যাত্রী নিরাপত্তা ও স্বস্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার সামনে এনে দিল দোহার এই ঘটনা।