আজকাল ওয়েবডেস্ক: চীনের শানডং প্রদেশের চিংদাও শহরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক নার্সের কর্মকাণ্ড ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাতের শিফটে নিজের প্রেমিককে সঙ্গে রেখে ডিউটি করা এবং প্রকাশ্যে তা ‘গর্বের সঙ্গে’ সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরার অভিযোগে ওই নার্সকে কাজ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে চিংদাওয়ের বেসরকারি সিংদে ব্রেন ব্লাড ভেসেল হাসপাতালে। জানুয়ারি ২ তারিখে ওই নার্স সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমি আর আমার নাইট-শিফট বাডি।” তাঁর উদ্দেশ্য ছিল প্রেমিকের ‘যত্নশীল’ মনোভাব দেখানো। কিন্তু ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তা যে এমন বিপর্যয় ডেকে আনবে, তা হয়তো তিনি নিজেও ভাবেননি।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওই যুবক—যিনি হাসপাতালের কোনও কর্মী নন—বারবার হাসপাতালের ভেতরে নার্সের সঙ্গে রয়েছেন। বিভিন্ন দিনের ভিডিওতে তাঁর পোশাক আলাদা হওয়ায় স্পষ্ট, এটি একদিনের ঘটনা নয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নার্স স্টেশনের কম্পিউটারে বসে রোগীদের রিপোর্ট লিখেছেন, রোগীদের ওষুধ প্রস্তুত করেছেন এবং এমনকি স্যালাইনের বোতলে লেবেলও লাগিয়েছেন—যা সরাসরি রোগীর জীবনের সঙ্গে যুক্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজ।

ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনলাইনে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক নেটিজেন লেখেন, “ওরা প্রেম করছে—এটা ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু রোগীর জীবন নিয়ে এভাবে খেলছে! ভুল লেবেল লাগলে দায় নেবে কে?” আরেকজন বলেন, “এতটা বেপরোয়া কীভাবে হতে পারে? কাজের প্রতি ন্যূনতম দায়িত্ববোধ নেই?” কেউ কেউ সরাসরি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য দফতরে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান।

চাপে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের কথা জানায়। হাসপাতালের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। এটি কোনও ছোটখাটো নিয়মভঙ্গ নয়। আমরা কড়াভাবে ব্যবস্থা নেব।” তাঁর মন্তব্য—“তার মস্তিষ্কে কিছু সমস্যা আছে”—নিয়ে নতুন করে বিতর্কও তৈরি হয়।

পরদিন, জানুয়ারি ৩ তারিখে, চিংদাও পৌর স্বাস্থ্য কমিশন আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে জানায়, ওই নার্সকে ‘কর্মশৃঙ্খলা ভঙ্গ’-এর অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “চিকিৎসা নিরাপত্তার ন্যূনতম সীমারেখা মানতেই হবে। রোগীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনও আপস করা হবে না। নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।”

ঘটনাটি একটি প্ল্যাটফর্মেই ২ কোটি ৪০ লক্ষের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর পর থেকে অনলাইনে শাস্তির দাবিও ক্রমশ চড়ছে। কেউ কেউ বলছেন, “এটা শুধু অবহেলা নয়, জননিরাপত্তা বিপন্ন করা—জেল হওয়া উচিত।” আবার অনেকের মত, এই ঘটনার পর চিংদাওয়ের সব হাসপাতালেই চিকিৎসা নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় পর্যালোচনা চালানো হবে।

একদিকে প্রেম ও ব্যক্তিগত জীবনের প্রদর্শন, অন্যদিকে হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় নিয়মভঙ্গ—এই দুইয়ের সংঘাতই যেন এই ঘটনার কেন্দ্রে। চীনে চিকিৎসা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও পেশাগত নৈতিকতা নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।