আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাদক পাচারের হোতা নিকোলাস মাদুরো। হত্যা মাদক পাচার- সহ আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগে সস্ত্রীক মাদুরোকে কারাকাস থেকে বন্দি করেছে মার্কিন বাহিনী। এরপরই সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্পের মুখে মাদক পাচারের বিষয়টি উঠে এসেছিল। সেই সঙ্গেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখে শোনা যায় ভেনিজুয়েলার খনিজ তেলের ভাণ্ডারের প্রসঙ্গও। 

বিশেবর তেলের বাজারে কী প্রভাব পড়বে?
বিশ্লেষকরা বলেছেন, ভেনিজুয়েলা অনেক কষ্টে সেখানে তেলের মজুদের মাত্র এক শতাংশ উত্তোলন করে থাকে। মার্কিন পদক্ষেপের ফলে দুনিয়াজুড়ে তেলের বাজারে কোনও বড় প্রভাব পড়বে না।

শনিবার ভেনিজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবাদিকদের বলেছেন, "আমাদের বড় বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনিজুয়েলায় যাবে, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তেল পরিকাঠামো মেরামত করবে এবং দেশটির (ভেনিজুয়েলা) জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।"

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, "কিন্তু যেসব দেশ তেল চায়, তাদের কাছে আমরা তেল বিক্রি করব। আমরা তাদের কাছে অনেক বেশি পরিমাণে তেল বিক্রি করব, কারণ তাদের (ভেনিজুয়েলা) পরিকাঠামো এতটাই খারাপ ছিল যে তারা খুব বেশি উৎপাদন করতে পারত না। তাই, আমরা অন্যান্য দেশে প্রচুর পরিমাণে তেল বিক্রি করব।"

তবে, এই অভিযানের ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল মাদক-সন্ত্রাসবাদ, যা থেকে প্রশ্ন ওঠে যে, এর মধ্যে তেল কীভাবে জড়িয়ে পড়ল?

বিশ্বের তেলের মজুদের ১৮ শতাংশ ভেনিজুয়েলার কাছে রয়েছে। যা অনেকটাই। কিন্তু বেনিজুয়েলা এখন পর্যন্ত মাত্র এক শতাংশ উত্তোলন করতে পেরেছে। এর কারণ হল, উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রাপ্ত হালকা তেলের তুলনায় ভেনিজুয়েলায় ভারী তেলের মজুদ রয়েছে। ভারী তেল পরিশোধনের জন্য উচ্চ স্তরের পরিশোধন সুবিধার প্রয়োজন হয়। যা ভেনিজুয়েলার ছিল না। এর পাশাপাশি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল এবং তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল, যা তেল উৎপাদনকে আরও সীমিত করেছিল।

এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে কিনা ট্রাম্পের কথায় তা জানা যায়নি, কারণ ট্রাম্প বলছেন মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনিজুয়েলায় যাচ্ছে। ভারী তেল থেকে শুরু করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সীমিত পরিশোধন ক্ষমতা - এইসব একাধিক কারণে ভেনিজুয়েলার এই অস্থিরতা বিশ্বের তেলের বাজারে কোনও প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কয়েক মাস ধরে হুমকি এবং চাপের কৌশলের পর, শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে বামপন্থী নেতা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে। তাঁকে নিউইয়র্কে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মার্কিন এই অভিযান দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় মাদুরোর ১২ বছরের শাসনের অবসান হয়। মাদক-সন্ত্রাসবাদী নিকোলাস মাদুরোর মাথার দাম ৫০ মিলিয়ন ডলার বলে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল মার্কিন প্রশাসন। শনিবার ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে প্রথমে একটি ছবি পোস্ট করেন, সেখানে দেখা যায় যে-  ক্যারিবিয়ান সাগরে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে হাতকড়া পরানো ও চোখ বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়েছে।

সেখান থেকে মাদুরো  এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মাদক ও অস্ত্রের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তাঁর মার-এ-লাগো এস্টেটে বসে মাদুরোকে গ্রেপ্তারের অভিযানটি সরাসরি দেখছিলেন। যার বর্ণনায় তিনি বলেন, "যেন আমি একটি টেলিভিশন শো দেখছি।"

ভেনিজুয়েলার বিরোধী দলের নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর দেশের "স্বাধীনতার মুহূর্ত এসে গিয়েছে"। মাদুরোর বিরুদ্ধে তাঁর অটল প্রতিরোধের জন্য অনেক ভেনিজুয়েলানদের কাছে নায়িকা হিসেবে পরিচিত মাচাদো, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থীকে "অবিলম্বে" প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে ট্রাম্পের তাতে সায় নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট শনিবারই বলেছিলেন, ভেনিজুয়েলায় মাচাদো  "সমর্থন বা সম্মান" নেই।