আজকাল ওয়েবডেস্ক: জর্জিয়ার লরেন্সভিল শহরে হাড়হিম কাণ্ড। তিন সন্তানের সামনে স্ত্রী এবং তিন আত্মীয়কে গুলি করে খুন করলেন এক ভারতীয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম বিজয় কুমার (৫১)।
স্ত্রী এবং সন্তানদের নিয়ে লরেন্সভিল সিটিতে থাকতেন বিজয়। যে সময় ঘটনাটি ঘটে, সেই সময় বাড়িতেই ছিল সস্ত্রীক বিজয় ও তাঁর তিন সন্তান। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক কোনও বিবাদের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর আটলান্টায় ভারতের কনসুলেট জেনারেল দুঃখপ্রকাশ করে ওই পরিবারকে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এক্স-বার্তায় লেখা হয়েছে, 'একটি কথিত পারিবারিক বিবাদের জেরে মর্মান্তিক গুলির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত, যেখানে নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। অভিযুক্ত হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শোকাহত পরিবারকে সব ধরনের সম্ভাব্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।'
গুইনেট কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন বিজয়ের স্ত্রী মিমু ডোগরা (৪৩), এ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন তিন আত্মীয় গৌরব কুমার (৩৩), নিধি চন্দ্র (৩৭) এবং হরিশ চন্দ্র (৩৮)। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, তাঁরা চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ শুনতে পান। তার পরই পর পর গুলির শব্দ। গুলির আওয়াজে পড়শিরা বেরিয়ে আসেন। পুলিশ এসে বিজয়কে গ্রেফতার করে। ঘরের ভিতর থেকে চার জনের দেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ রিপোর্টে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে চারটি গুরুতর হামলার অভিযোগ, চারটি হত্যা মামলা, চারটি বিদ্বেষমূলক হত্যার অভিযোগ, প্রথম ডিগ্রিতে শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার একটি অভিযোগ এবং তৃতীয় ডিগ্রিতে শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত আড়াইটে নাগাদ ব্রুক আইভি কোর্টে এই ঘটনাটি ঘটে। তারা বাড়িতে ঢুকে চার জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। যে সময় ঘটনাটি ঘটে, সেই সময় বিজয়ের সন্তানেরা বাড়িতেই ছিল। ভয়ে এবং বাঁচার তাগিদে তারা তিন জনেই আলমারির ভিতরে লুকিয়ে পড়েছিল। তাদের মধ্যে এক জন ৯১১-এ ফোন করে। সেই ফোন পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
তদন্তে পুলিশের দাবি, নিজেদের রক্ষা করার জন্য শিশুরা একটি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়েছিল। শিশুদের মধ্যে একজন ৯১১-এ ফোন করতে পেরেছিল। যার ফলে পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেন। পুলিশ শুক্রবার ভোর আড়াইটের দিকে (স্থানীয় সময়) ব্রুক আইভি কোর্টের ১০০০ ব্লকের একটি ফোন কলের জবাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্মকর্তারা বাড়ির ভেতরে চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মৃতদেহ দেখতে পান, যাদের সবার শরীরে গুলির মারাত্মক আঘাত ছিল।
