আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন—এমন গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও তা সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে দাবি করেছে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। দপ্তরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নেতানিয়াহু সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তার মৃত্যুর খবর ভিত্তিহীন।


শুক্রবার নেতানিয়াহু নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে চলতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল-ইরান সংঘাত নিয়ে তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন। কিন্তু সেই ভিডিও ঘিরেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক।


ভিডিওটির একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে—প্রায় ৩৫ সেকেন্ডের মাথায়—নেতানিয়াহু হাত তুললে অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, তার ডান হাতে নাকি ছয়টি আঙুল দেখা যাচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়েই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে ভিডিওটি নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। অনেকে এটিকে তথাকথিত “এআই ফিঙ্গার গ্লিচ” বলে আখ্যা দেন, কারণ এআই-জেনারেটেড ছবিতে অতিরিক্ত আঙুল দেখা যাওয়ার ঘটনা অতীতে বহুবার ঘটেছে।


এই গুজবকে আরও উসকে দেন মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার ক্যানডেস ওয়েনস। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে প্রশ্ন তোলেন, “বিবি কোথায়?”—নেতানিয়াহুর জনপ্রিয় ডাকনাম ব্যবহার করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও প্রকাশ করছে এবং কেন হোয়াইট হাউসে নাকি আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।


এছাড়াও কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ভিডিওর পেছনের দৃশ্য নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, ভিডিওতে পেছনের কালো পর্দাটি বারবার একইভাবে নড়ছে, যেন সেটি লুপ হয়ে চলছে, অথচ পাশে থাকা ইজরায়েলের দুটি পতাকা একেবারেই নড়ছে না। তাদের মতে, এটিও এআই ভিডিও হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত।


তবে এই দাবিগুলোর বিরুদ্ধেও পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয়েছে। অনেকেই বলেছেন, বর্তমানে অনেকেই ভার্চুয়াল বা কৃত্রিম ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করেন—বিশেষ করে টেলিভিশন সম্প্রচার বা অনলাইন ভিডিওতে। তাই শুধু ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে ভিডিওকে ভুয়ো বলা ঠিক নয়।


এই বিতর্কে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এর এআই চ্যাটবট গ্রোকও বিষয়টি যাচাই করে জানায়, নেতানিয়াহুর হাতে ছয়টি আঙুল নেই। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিডিওর স্থিরচিত্রে হাতের কোণ, ছায়া বা তালুর স্বাভাবিক গঠনের কারণে এমন বিভ্রম তৈরি হয়েছে। ইজরায়েল সরকারের প্রেস অফিস থেকে প্রকাশিত সম্পূর্ণ ভিডিওতে পরিষ্কারভাবেই পাঁচটি আঙুল দেখা যায়।


এই গুজবের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই নিহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এরপর থেকেই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করেছে।


এদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ  হরমুজ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এবং বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

 


বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তাই যে কোনও তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরেই তা বিশ্বাস করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।