আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ বর্তমানে ইরানের নাগালের মধ্যে রয়েছে। এর একটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে বলে ট্র্যাকিং তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। আরেকটি ক্যারিয়ার গ্রুপ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে মোতায়েন করা হয়েছে। এই শক্তি প্রদর্শনের প্রেক্ষাপটে তেহরান থেকেও এসেছে কড়া বার্তা। ইরানের প্রধান খামেইনি ঘোষণা করেছেন, আমেরিকার শক্তি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারবে না। প্রয়োজনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।


এই পারস্পরিক শক্তি প্রদর্শন ও কঠোর বক্তব্যের মাঝেই নীরবে চলছে কূটনৈতিক তৎপরতা। জেনেভাতে ওমানের মধ্যস্থতায় মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা পুনরায় আলোচনায় বসেছেন, যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতি না ঘটে। প্রশ্ন হল, এটি কি সত্যিই সম্ভাব্য সংঘাতের পূর্বাভাস, নাকি বহু দশক ধরে চলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈরিতার আরেকটি চক্র?


বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। গত জুনে ১২ দিনের ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বল্প সময়ের জন্য ইজরায়েলি হামলায় অংশ নেয় এবং ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটিগুলিতে আঘাত হানে। সেই নজিরের কারণে আজকের শক্তি প্রদর্শনকে কেবল কৌশলগত ভাষণ বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন। 


বড় অনিশ্চয়তা হল ওয়াশিংটন আসলে কী চায়, তার স্পষ্ট রূপরেখা নেই। আলোচনার পরিসরে কী কী থাকবে, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। উপসাগরে বাড়তে থাকা সামরিক উপস্থিতির সঙ্গে এই অস্পষ্টতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তবে এই কৌশল অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়ায়।


অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তারা অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে। কিন্তু এখানেও রয়েছে কৌশলগত দ্বিধা। উপসাগরীয় অনেক দেশে মার্কিন ঘাঁটি থাকলেও, সেসব দেশের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক এখন তুলনামূলক ইতিবাচক। অতীতে কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর দোহা-তেহরান সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছিল। ফলে একই পথে হাঁটলে কূটনৈতিক অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

&t=1s


ফলে ইরান একধরনের দ্বৈত সংকটে রয়েছে—বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখাতে চায়, কিন্তু এমন পদক্ষেপ নিতে চায় না যা আঞ্চলিক সম্পর্ক নষ্ট করে। একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাপ তৈরি করতে চায়, তবে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে সচেষ্ট।
এই টানাপোড়েনের মাঝে জেনেভার নীরব আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তাই এখন দেখার বিষয়। উপসাগরের জলে ভাসছে রণতরী, আকাশে উত্তেজনার মেঘ—কিন্তু শেষ পর্যন্ত বন্দুকের গর্জন শোনা যাবে, নাকি কূটনীতিই পথ দেখাবে, সেটিই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের আগামী অধ্যায়।