আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৭ সালের ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ‘সেমিফাইনাল’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল এবারের স্থানীয় নির্বাচনকে। তবে ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, মেরি ল্য পেনের কট্টর দক্ষিণপন্থী ‘ন্যাশনাল র্যালি’ এবং জঁ-লুক মেলঁশঁ-র কট্টর বামপন্থী ‘লা ফ্রান্স ইনসুমিজ’—উভয় পক্ষই যতটা দাপট দেখাবে বলে আশা করেছিল, বাস্তবে তার থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। উল্টোদিকে, অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো ফল করে রাজনৈতিক লড়াইয়ে অক্সিজেন ফিরে পেল ফ্রান্সের মূলধারার মধ্যপন্থী দলগুলো।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সমাজতন্ত্রী দলের (Socialist Party) এমানুয়েল গ্রগোয়ার এক বিশাল জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। গ্রিন পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে তিনি হারিয়ে দিয়েছেন কট্টর বামপন্থী ও ডানপন্থী—উভয় শিবিরের প্রার্থীদেরই। অন্যদিকে, ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেই দখল করা ছিল ল্য পেনের দল ‘ন্যাশনাল র্যালি’-র প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু বর্তমান মেয়র বেনোয়া পায়ান কট্টরপন্থীদের সেই স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছেন।
ভোটের ফলে দেখা যাচ্ছে, ফ্রান্সের বড় শহরগুলোর ভোটাররা এখনও কট্টরপন্থাকে মেনে নিতে পারছেন না। যখনই মূলধারার মধ্যপন্থী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখনই তারা ল্য পেনের দলকে রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে। একে ফ্রান্সে ‘রিপাবলিকান ফ্রন্ট’ বলা হয়। যদিও কারকাসোন, মেন্টন এবং নিস-এর মতো কিছু দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরে দক্ষিণপন্থীরা জিতেছে, তবুও তুলোন বা নিম-এর মতো বড় টার্গেটগুলো তারা মিস করেছে।
জঁ-লুক মেলঁশঁ-র দল LFI প্যারিসের উপকণ্ঠে কিছু জায়গায় জিতলেও সামগ্রিকভাবে তাদের পারফরম্যান্স খুব একটা সুখকর নয়। অভিযোগ উঠেছে, অতি-বামপন্থা এবং উগ্র আচরণের কারণে সাধারণ ভোটাররা তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। এমনকি সমাজতন্ত্রীরা যেখানেই LFI-এর সঙ্গে জোট বেঁধেছে, সেখানেই তাদের হারের মুখ দেখতে হয়েছে। তৌলুজ, লিমোজেস এবং ব্রেস্ট-এর মতো শহরগুলো এর বড় উদাহরণ।
এই স্থানীয় নির্বাচনের ফল এমানুয়েল মাক্রঁ-র উত্তরসূরিদের জন্য যেমন কিছুটা স্বস্তির, তেমনই ল্য পেনের জন্য সতর্কবার্তা। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা স্থানীয় সমস্যায় অভিজ্ঞ ও স্থিতিশীল নেতৃত্বকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। ৩ হাজার ৫০০-র বেশি জনসংখ্যার পৌরসভাগুলোতে কট্টর দক্ষিণপন্থীরা তাদের কাউন্সিলর সংখ্যা বাড়ালেও, বড় প্রশাসনিক ক্ষমতা দখল করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
এই জয়-পরাজয়ের সমীকরণ আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইকে যে আরও জটিল করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, মূলধারার দলগুলো এই জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারে কি না।
