আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবার ভাইরাল হলেন এক মহিলা, যিনি কয়েক মাস আগেই বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছিলেন। জানুয়ারিতে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের ছবিতে আগুন লাগিয়ে সেই আগুন দিয়ে সিগারেট ধরানোর ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। এবার তিনি নতুন একটি ভিডিওতে তাঁর মৃত্যুর খবর উদযাপন করতে দেখা গিয়েছে, যা ঘিরে আবার তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ ‘Morticia Addams’ নামে পরিচিত ওই মহিলা নতুন একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যায়, তিনি একটি বড় মিছিলের সঙ্গে হাঁটছেন এবং গান গাইতে গাইতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন—“আমি তো বলেছিলাম, তোমার কবরের উপর নাচব।”

ভিডিওতে #KingRezaPahlavi হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ইরানের শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলাভিকে সমর্থন করার একটি রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সময় ইরানে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং তার পরেই ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

ভিডিওটি প্রকাশিত হয় ঠিক সেই সময়, যখন ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানায় যে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলায় খামেনেই নিহত হয়েছেন। এই খবর সামনে আসতেই ইরানের বিভিন্ন শহরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কোথাও আতঙ্ক, কোথাও আবার সীমিত পরিসরে আনন্দ উদযাপনের খবরও সামনে এসেছে—বিশেষ করে তেহরান, কারাজ এবং ইসফাহানের মতো শহরগুলিতে।

এই মহিলা প্রথম আলোচনায় আসেন চলতি বছরের জানুয়ারিতে। তখন একটি ভিডিওতে দেখা যায় তিনি খামেনেইয়ের একটি মুদ্রিত ছবি জ্বালিয়ে সেই আগুন দিয়ে সিগারেট ধরাচ্ছেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং অনেকেই এটিকে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখেন।

?ref_src=twsrc%5Etfw">February 28, 2026

তবে পরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার একটি ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে জানা যায়, সেই ভিডিওটি ইরানে নয়, কানাডায় রেকর্ড করা হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী ভিডিওটি অন্টারিও প্রদেশে একটি Canadian Imperial Bank of Commerce-এর শাখার সামনে রেকর্ড করা হয়। পরবর্তীতে ওই মহিলা একটি সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি জীবনের বেশিরভাগ সময় ইরানে কাটালেও বর্তমানে কানাডায় নির্বাসনে রয়েছেন। তাঁর পরিবারের কিছু সদস্য এখনও ইরানে বসবাস করেন।

তবু এই দৃশ্য দ্রুত ইরানের সরকার বিরোধী প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে “Woman, Life, Freedom” আন্দোলনের সময় এমন অনেক প্রতীকী প্রতিবাদ সামনে আসে। সেই আন্দোলন শুরু হয় ২০২২ সালে, যখন নীতি পুলিশের হেফাজতে তরুণী Mahsa Amini-র মৃত্যুর পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানে সর্বোচ্চ নেতার ছবি পোড়ানো বা অপমান করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। পাশাপাশি প্রকাশ্যে মহিলাদের ধূমপান নিয়েও সামাজিক বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে এই ধরনের প্রতিবাদ অনেকের কাছে অত্যন্ত উসকানিমূলক বলে মনে হয়। এই ঘটনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর তেহরানে বড় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবরের পর একটি অন্তর্বর্তী শাসন পরিষদ গঠন করা হয়েছে এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।