আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা কি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করছে? ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, ‘না’। পশ্চিম এশিয়ার অশান্তিতে বিশ্ববাজার যখন টালমাটাল, তখন আমেরিকার এই দাবি ঘিরে শোরগোল শুরু হয়েছে। খোদ ট্রাম্প শিবিরের ব্যাখ্যা, ইরানের সঙ্গে এখন ‘যুদ্ধবিরতি’ চলছে।  তাই আপাতত আইনি জটিলতার কোনও ভয় নেই।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের বেশি যুদ্ধ চালাতে পারেন না। সেই মেয়াদের সময়সীমা ছিল ১ মে। কিন্তু হাউস স্পিকার মাইক জনসন স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমরা তো যুদ্ধে নেই। এখন শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চলছে।” মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের গলাতেও একই সুর। তাঁর মতে, যুদ্ধবিরতি চলছে মানেই আইনের ওই ‘৬০ দিনের ঘড়ি’ এখন বন্ধ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও আমেরিকা মিলে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই এবং বহু সেনাকর্তার মৃত্যু হয়। পাল্টা মারে ইরানও ইজরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে বোমা ফেলে এবং সমুদ্রপথে পণ্য চলাচল বন্ধ করে দেয়। ট্রাম্প ২ মার্চ এই অভিযানের কথা কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন। সেই হিসেবে ১ মে-র মধ্যে কংগ্রেসের সবুজ সংকেত পাওয়ার কথা। তা না মেলায় এখন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কংগ্রেসের সংঘাত অনিবার্য।

ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন আইন ভাঙছে। সেনেটর টিম কেইন সাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চললে আইনের মেয়াদ থেমে যায়- এমন কোনও কথা কোথাও লেখা নেই। তাঁদের মতে, ১ মে-র পরও এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি হবে৷ 

যদিও ট্রাম্পকে আটকানো সহজ নয়। সেনেটে ডেমোক্র্যাটদের আনা একের পর এক প্রস্তাব খারিজ হয়ে যাচ্ছে। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত হাউসেও বিশেষ সুবিধে করতে পারছে না বিরোধীরা। সেনেটর অ্যাডাম শিফ আক্ষেপ করে বলেন, “দু’মাস ধরে যুদ্ধ চলল। ১৩ জন সেনার প্রাণ গেল। কোটি কোটি ডলার খরচ হল। এবার অন্তত থামুন।” কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এখনই পিছু হঠতে নারাজ। এই টানাপড়েন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, বর্তমানে সেটাই দেখার।