আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার অর্থাৎ ৫ আগস্ট থেকে পৃথিবীর ঘূর্ণনে হঠাৎই চমকপ্রদ পরিবর্তন লক্ষ্য করলেন বিজ্ঞানীরা। আর সেই পরিবর্তন রীতিমত চাঞ্চল্যকর। জানা গিয়েছে, নির্ধারিত গতির চেয়ে এদিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট হঠাৎই দ্রুত ঘুরতে শুরু করতে দিয়েছে পৃথিবী। যে কারণে মঙ্গলবার অন্যান্য সময়ের চেয়ে ইতিহাসের অন্যতম ছোট দিন হিসেবে গণ্য করা হতে পারে, এমনটাই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষ পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি বেড়ে যাওয়াটা অনভব করতে পারবেন না, কিন্তু দিন ছোট হলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন সকলেই। এমনটাই জানানো হয়েছে টাইমঅ্যান্ডডেট.কমের এক রিপোর্টে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ২০২০ সাল থেকে পৃথিবীর ঘূর্ণনে সামান্য এক গতি-বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে ছোট দিনগুলোর প্রথম দীর্ঘস্থায়ী সময়কাল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই ও ২২ জুলাই পৃথিবীর গতি তুলনামূলকভাবে আরও বেড়েছিল, যার ফলে প্রায় ১.৩ ও ১.৪ মিলিসেকেন্ড সময় হারিয়ে গেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই গতি-বৃদ্ধির ফলে সময়ের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে নেতিবাচক লিপ সেকেন্ড যুক্ত করা হতে পারে গবেষণায়। যা অত্যন্ত জটিল ও বিরল পদক্ষেপ বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজির টাইম অ্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সি বিভাগের পদার্থবিদ জুডা লেভিন ২০২১ সালে ডিসকভার ম্যাগাজিনকে বলেছিলেন, ‘লিপ সেকেন্ড যুক্ত না হওয়ার বিষয়টাই অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। আমাদের ধারণা ছিল পৃথিবীর গতি ধীরে ধীরে কমবে, এবং ভবিষ্যতে লিপ সেকেন্ড প্রয়োজন হবে। কিন্তু এই পরিবর্তন সত্যিই চমকপ্রদ’।
হঠাৎ পৃথিবীর গতি বেড়ে যাওয়ায় নেতিবাচক লিপ সেকেন্ড চালু হলে তা বিশ্বব্যাপী সময় বজায় রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে অনেকটাই। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের নেতিবাচক লিপ সেকেন্ড গ্রহণ করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ এতে বিশ্বব্যাপী সময়ের হিসাব রাখা, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ও সফটওয়্যারের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে অনেকটাই। কারণ, প্রত্যেক যন্ত্র একটা সময় ধরে এগিয়ে চলেছে। বিশ্বজুড়ে সেটা পরিবর্তন করতে হলে ভয়ঙ্কর সমস্যার সৃষ্টি হবে, এমনটাই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু পৃথিবীর গতি বাড়ার পিছনে কারণ এখনও পরিষ্কার নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পৃথিবীর ভিতরের কোরের পরিবর্তনে এই ঘটনা ঘটতে পারে। কিংবা বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহে রদবদল, গলন্ত হিমবাহের কারণে ভর-বন্টনের পরিবর্তনের ফলেও হতে পারে।
এল নিনো ও লা নিনার মতো জলবায়ু পরিবর্তনের ঘটনা মূলত পৃথিবীর ভর বণ্টনে প্রভাব ফেলে, তাও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। টাইমঅ্যান্ডডেট.কমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সম্ভাব্য সবচেয়ে ছোট দিনের সময় চাঁদ পৃথিবীর নিরক্ষরেখা থেকে সর্বোচ্চ দূরত্বে থাকবে, যা গতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটির পৃথিবীর ঘূর্ণন বিশারদ লিওনিদ জোটভ বলেন, ‘এই গতি বৃদ্ধির কোনও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। অধিকাংশ বিজ্ঞানীর মতে, এটি পৃথিবীর ভিতরে কিছু ঘটছে বলে ইঙ্গিত করছে। মহাসাগর বা বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তন এই হঠাৎ গতি-বৃদ্ধিকে ব্যাখ্যা করতে পারে না’।
