আজকাল ওয়েবডেস্ক: নরওয়ের প্রত্যন্ত আর্কটিক দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত রয়েছে ‘ডুমসডে ভল্ট’। সম্প্রতি প্রথমবারের মতো দুটি নতুন দেশের পাঠানো বীজ সংগ্রহে যুক্ত করেছে। বিশ্বের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০০৮ সালে চালু হওয়া এই ভল্টটি নরওয়ের সাভালবার্ড দ্বীপপুঞ্জের পারমাফ্রস্টে নির্মিত। শীতল ও স্থিতিশীল পরিবেশের কারণে এখানে লাখ লাখ ফসলের বীজ দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদে সংরক্ষণ করা সম্ভব। যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনও সংকটে যদি কোনও দেশের নিজস্ব জিনব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে এখানকার সংরক্ষিত বীজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে।
নতুন সংযোজিত বীজগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ধান, গম, ভুট্টা এবং স্থানীয়ভাবে অভিযোজিত শস্য, যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কৃষি ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রথমবার অংশগ্রহণকারী দেশ দুটি তাদের জাতীয় জিনব্যাংক থেকে নির্বাচিত নমুনা পাঠিয়েছে, যাতে এই সংগ্রহ আরও বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী হয়।
এই ভল্ট পরিচালনায় নরওয়ে সরকার ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কর্প ট্রাস্ট এবং নর্ড ট্রাস্ট। তাদের লক্ষ্য হল পৃথিবীর প্রতিটি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্যের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা, যাতে ভবিষ্যতে রোগ প্রতিরোধী, খরা-সহনশীল বা লবণাক্ততা-সহনশীল নতুন জাত উদ্ভাবন করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে কৃষি উৎপাদন ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এবং নতুন রোগ ফসলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই অবস্থায় বৈচিত্র্যময় বীজভান্ডার ভবিষ্যতের কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
বর্তমানে ভল্টে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জিনব্যাংক থেকে পাঠানো লাখো নমুনা সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতিটি বীজ প্যাকেট সুরক্ষিতভাবে সিল করে নির্দিষ্ট তাক ও কক্ষভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থায় রাখা হয়, যাতে কয়েক দশক এমনকি শতাব্দীজুড়েও কার্যক্ষমতা বজায় থাকে।
দুটি নতুন দেশের অংশগ্রহণ শুধু সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়; এটি বিশ্বের সহযোগিতার এক শক্তিশালী বার্তা। খাদ্যনিরাপত্তা যে কেবল একটি দেশের বিষয় নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির সম্মিলিত দায়িত্ব—স্বালবার্ডের বরফঢাকা পাহাড়ের ভেতরে সংরক্ষিত এই বীজভান্ডার তারই প্রতীক।
