আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর কয়েক ঘণ্টা। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে আগামিকাল, বুধবার। তার আগেই পাকিস্তানে যেতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্রের খবর, ইরানের সঙ্গে বৈঠকের পর চুক্তি চূড়ান্ত হলে, সেখানে স্বাক্ষর করতে পারেন ট্রাম্প। 

 

এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকে অংশ নিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রতিনিধিদলে তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেন, নাহলে বৈঠকে ভার্চুয়ালি হাজির থাকতে পারেন। 

 

দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকর পর, শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হলে, সেখানে ট্রাম্প নিজে স্বাক্ষর করতে পারেন বলেও সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে। আগামিকাল, ২২ এপ্রিল বুধবার ভারতীয় সময় রাত ৮টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহব্যাপী সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে। তার আগে বৈঠক হবে কিনা, ইরান অংশগ্রহণ করবে কিনা, এমনকী বৈঠক ভেস্তে গেলে কী হবে, তার দিকেই মুখিয়ে রয়েছেন সকলে। 

 

দ্বিতীয় দফার এই শান্তি বৈঠকে যোগ দিতে নারাজ ইরান। তবে তেহরানের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, চুক্তি চূড়ান্ত করতে চায় ইরান। কিন্তু গত সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের পতাকা লাগানো একটি জাহাজ বাজেয়াপ্ত করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। মার্কিন বাহিনীর দাবি, চীন থেকে সেই জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির রাসায়নিক নিয়ে আসছিল। ওই জাহাজ বাজেয়াপ্ত করা নিয়েই ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠকে যোগ না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। 

 

আদৌ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে? আশঙ্কা উড়িয়ে ট্রাম্প এদিন জানিয়েছেন, "আমাদের মধ্যে আলোচনা করার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করছি, এবার আর কেউ কোনো খেলা খেলবেন না।" ট্রাম্প এও জানিয়েছেন, "আমার আলোচনায় বসতে কোনও আপত্তি নেই। তারা যদি দেখা করতে চান, আমাদের যোগ্য প্রতিনিধি রয়েছেন।" 

 

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার 'শান্তি আলোচনা' প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সে দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি' বা 'ইরনা' এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, "ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে যেসব খবর ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।" 

 

মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে আর কয়েক ঘণ্টায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই সেই আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দলকে পাকিস্তানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা করা হয়েছে। 

 

'ইরনা'-র খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, "মার্কিনিদের অতিরিক্ত দাবিদাওয়া, অযৌক্তিক ও অবাস্তব প্রত্যাশা, অবস্থানে ঘনঘন পরিবর্তন, ধারাবাহিক স্ববিরোধিতা এবং তথাকথিত নৌ-অবরোধ (যা যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত বোঝাপড়ার লঙ্ঘন) এর পাশাপাশি হুমকি-ধমকিপূর্ণ হুঙ্কার এখন পর্যন্ত আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।" সেখানে আরওলেকা হয়েছে যে, "এমন পরিস্থিতিতে গঠনমূলক আলোচনার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।" 

 

তেহরান, ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে 'দোষারোপের খেলা'য় মেতে ওঠার এবং ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও এনেছে।