আজকাল ওয়েবডেস্ক: খ্রিসমাসের দিন (২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪) কাজাখস্তানের আকতাউ শহরের কাছে ভেঙে পড়ে আজারবাইজান এয়ারলাইন্সের যাত্রিবাহী একটি বিমান। ৬৭ জন যাত্রীর মধ্যে প্রাণ যায় ৩৮ জনের। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য বিশ্বজুড়ে। আজারবাইজান এয়ারলাইন্সের দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের দেহে মিলেছে বোমা বিস্ফোরণের সময় ছিটকে যাওয়া ছোট ছোট ধাতুর অংশ। এরপরই বিমান দুর্ঘটনার বিষয়টি- নিছক দুর্ঘটনা, নাকি বিমান ভেঙে পড়ার নেপথ্যে রয়েছে নাশকতা তা নিয়েই চলছে আলোচনা।
আজারবাইজান এয়ারলাইন্সের এম্ব্রেয়ার ১৯০ বিমানটি আজারবাইজানের বাকু থেকে উড়েছিল। এরপর তা রাশিয়ার উত্তর ককেশাসের গ্রোজনি শহরের দিকে যাত্রা করে। জানা গিয়েছে, ওই বিমানের গতিমুখ ঘোরানো হয়েছিল। এরপরেই কাজাখস্তানের আকতাউ শহরের কাছে জরুরি অবতরণের জন্য বিমানচালক আবেদন জানিয়েছিলেন।
যদিও রাশিয়ার অ্যাভিয়েশন ওয়াচডগের তরফে জানানো হয়েছে, অ্যাকতাউয়ের কাছে একটি পাখির সঙ্গে ধাক্কা লাগায় বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন বিমানচালক। বেশ কিছু তথ্য অনুসারে, বিমানটিকে ইউক্রেনের ড্রোন ভেবে ভুল করেছিল রাশিয়ার সেনাবাহিনী। ফলে সেটিকে গুলি করে নামানোর চেষ্টা করা হয়।
বিমানটির মূল দেহে মিলেছে বোমা বিস্ফোরণের সময় ছিটকে যাওয়া ছোট ছোট ধাতুর অংশ বা শ্রাপনেলের দাগ দেখা। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, বিমানে কোনও রকম সংঘর্ষ হলে এই দাগ লাগার কথা নয়। বিএনও নিউজের রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে যে, বিমানচাল ওই সময় রাশিয়ান এয়ার ডিফেন্সে কল করেছিলেন। রুশ বাহিনী তখন ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার মোকাবিলাতে ব্যস্ত ছিল। এই সংঘর্ষের মাঝে পড়েই মর্মান্তির পরিণতি ঘটে আজারবাইজানের বিমানটির।
এ প্রসঙ্গে কাজাখস্তানের উপ-মুখ্যমন্ত্রী কানাত বোজাম্বাইয়েভ বলেছেন, "আমার অপরিণত মন্তব্য করার সাহস নেই।"
বিমান দুর্ঘটনার পর আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ তাঁর রাশিয়া সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন। রাশিয়ায় তাঁর সাবেক সোভিয়েত দেশগুলির একটি গ্রুপ কমনওয়েলথ অফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটসের নেতাদের একটি ইনফর্ম্যাল শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল প্রেসিডেন্টের।
