আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর্থিক লাভের জন্য মানুষ কতটা দূর পর্যন্ত যেতে পারে, তার এক চমকপ্রদ উদাহরণ ব্রিটেনের এক দম্পতি। অর্থ উপার্জনের জন্য তাঁরা এমন এক পথ বেছে নিয়েছেন, যা দেখে হতবাক সকলে। যে যা খুশি বলুক হেলদোল নেই ওই দম্পতির। তাঁদের দাবি, যা করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ পেশাগত এবং এটি তাঁদের সম্পর্কের ওপর কোনও প্রভাব ফেলেনি।
দ্য সান-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ব্রিটেনের চেশায়ারের একজন মহিলা দাবি করেছেন, তিনি এবং তাঁর প্রেমিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী কন্টেন্ট তৈরি করে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করেন। যদিও এই দম্পতি নিজেদের বিষমকামী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে তাঁদের তৈরি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে যে মহিলা পুরুষ সঙ্গীটি অন্য পুরুষদের সঙ্গে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হয়েছেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, ওই মহিলা তাঁর সঙ্গী সেই দৃশ্যগুলি ভিডিও ও পরিচালনা করছেন।
টেরি এবং রায়ান নামের ওই দম্পতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুলি’তে তাঁদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে খোলসা করেছেন। তাঁদের ব্যাখ্যা, এই সিদ্ধান্তটি ব্যক্তিগত পছন্দের নয় বরং চাহিদা ও আর্থিক লাভের দ্বারা প্রভাবিত ছিল। তাঁরা জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে তারা অনলাইনে কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন এবং প্রাথমিকভাবে দু’জনে একসঙ্গেই ভিডিও তৈরি করতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা লক্ষ্য করেন যে পুরুষের সঙ্গে পুরুষের অর্থাৎ সমকামী যৌন কার্যকলাপ সম্পর্কিত কনটেন্ট অনেক বেশি দর্শক টানছে এবং আয়ও বেশি হচ্ছে। এরপরেই তাঁরা ভিডিওর ধরণ পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেন। ফল মেলে হাতেনাতে।
টেরি জানিয়েছেন, ২০২১ সালে রায়ান জেলে থাকাকালীন তিনি কনটেন্ট তৈরি করা শুরু করেন। সেই সময়ে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের সঙ্গে কাজ করেন। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দম্পতি একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছিল যে এই ধরনের কনটেন্টই বেশি লাভজনক।
রায়ান জোর দিয়ে বলেছেন যে কাজটি সম্পূর্ণ পেশাদার। এটি তাঁর যৌন পরিচয় নয়। তিনি বলেন, ‘এটি একটি চাকরি’। তাঁর দাবি, তিনি ব্যক্তিগত অনুভূতিকে অর্থ উপার্জনের কার্যকলাপ থেকে আলাদা রাখেন। দম্পতির দাবি, তাঁদের মাসিক আয় গড়ে প্রায় ৬,০০০ পাউন্ড (প্রায় ৭.২৫ লক্ষ টাকা)। যদিও আয়ের অঙ্কটি ওঠানামা করতে থাকে।
টেরি জানিয়েছেন, পারস্পরিক বিশ্বাস ও স্বচ্ছতার কারণেই এই পদ্ধতি কাজ করেছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর কোনও অস্বস্তি নেই। তবে, তিনি স্বীকার করেছেন যে তাঁর পরিবার ব্যাপারটি ভাল ভাবে নেয়নি। টেরি জানিয়েছেন, তাঁর মা এই ভেবে উদ্বিগ্ন যে এর ফলে তাঁর এবং রায়ানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি না হয়ে যায়।
