আজকাল ওয়েবডেস্ক: চীনের দুটি প্রধান শহরের আকাশে প্লাস্টিকের মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। এমন অদ্ভুত ও আশ্চর্যের ঘটনা সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে। এই বিষয়টি বিজ্ঞানীদেরও হতবাক করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে বৃহত্তর গুয়াংঝৌ ও শিয়াং শহরের বায়ুমণ্ডলে মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ন্যানোপ্লাস্টিকের পরিমাণ পূর্বের তুলনায় অনেক গুণ বেশি। এগুলো এতটাই ক্ষুদ্র কণার আকারের যে চোখে সরাসরি দেখা যায় না, কিন্তু বিজ্ঞানীরা তাদের সনাক্ত করেছেন।
গবেষণায় এমন অতি ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিক কণাও শনাক্ত হয়েছে যাদের আকার প্রায় ২০০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত! এই ধরণের প্লাস্টিক কণাগুলোর উপস্থিতি বায়ুমণ্ডলে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে এবং বৃষ্টির সঙ্গে মিশে আবার নিচে নেমে আসছে। অর্থাৎ এখানে প্লাস্টিক কণার “বৃষ্টি” হতেও পারে।
এই গবেষণা বিজ্ঞানীদের কাছে এক দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ বায়ুর মাধ্যমে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলো মানুষের নিশ্বাসে প্রবেশ করতে পারে এবং সরাসরি শ্বাসনালী ও শরীরের অভ্যন্তরীণ অংশে পৌঁছতে পারে। যদিও এই কণাগুলোর স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি, বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
গবেষণাটি সায়েন্স অ্যাডভান্স জার্নালে প্রকাশ পেয়েছে এবং এতে বলা হয়েছে যে বায়ুমণ্ডলে প্লাস্টিকের পরিমাণ যা থাকা উচিত তার থেকে দুই থেকে ছয় গুণ বেশি হতে পারে। এর মানে হল প্লাস্টিকের মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিক কণাগুলো বায়ুতে বিপুল পরিমাণে রয়েছে এবং সাধারণ পদ্ধতিতে শনাক্ত করা কঠিন ছিল।
গবেষকরা জানান, রাস্তার ময়লা এবং বৃষ্টি এই কণাগুলোর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ ও ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাতাসে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়া এবং তারা কিভাবে মেঘ গঠন করছে তা নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি শুধু পরিবেশগত দূষণ নয়, বরং জলবায়ু এবং আবহাওয়ার ওপরও সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে। এরফলে বায়ুমণ্ডলে মেঘ গঠন, বৃষ্টিপাতের ধরণ এবং সূর্যের আলো প্রতিফলনের মতো প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে। যদিও এই দিকগুলো এখনও গবেষণার পর্যায়েই আছে, তবে বিজ্ঞানীরা সতর্কভাবেই বলছেন যে প্লাস্টিক দূষণ এখন শুধু জল বা মাটিতে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন আকাশেও ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন যে এই গবেষণার ফলাফল পরিবেশগত নীতি ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। এখন শুধুমাত্র প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো নয়, বরং বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়া প্লাস্টিক কণার উৎস, তাদের গতিপথ, এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব নির্ণয়ের জন্যও নতুন গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর আবিষ্কারটি আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে প্লাস্টিক দূষণ পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি পরিবেশগত সিস্টেমেই উপস্থিত। এটি শুধু দৃষ্টি আকর্ষণ করছে নয় বরং মানবজীবনের জন্য বড় ধরনের প্রশ্নও নিয়ে আসছে।
