আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলো বিপুল পরিমাণ সবজির অবশিষ্টাংশ ফেলে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে গাজরের রস বা প্রাকৃতিক রং তৈরির সময় উৎপন্ন হওয়া গাজরের সাইড স্ট্রিম। অন্যদিকে, একই সময়ে বিশ্বের বহু মানুষ প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই দুই সমস্যার সমাধানে নতুন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন জার্মানির বিজ্ঞানীরা।


জার্মান গবেষণায় দেখানো হয়েছে, গাজর প্রক্রিয়াকরণের পর যে অবশিষ্ট তরল ও কঠিন অংশ থেকে যায়, সেগুলো ব্যবহার করে খাওয়ার উপযোগী ছত্রাক বা ফাঙ্গাস জন্মানো সম্ভব। এই ছত্রাক গাজরের বর্জ্যকে রূপান্তরিত করতে পারে উচ্চমানের প্রোটিনে, যা ভেগান খাবারে খুব ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়।


গাজরের সাইড স্ট্রিম মূলত তৈরি হয় জুস বা প্রাকৃতিক রং উৎপাদনের সময়। প্রক্রিয়াকরণের পরও এই অবশিষ্ট উপাদানে প্রচুর চিনি, খনিজ এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ থেকে যায়। সাধারণত এগুলো ফেলে দেওয়া হলেও গবেষকরা এগুলোকে ছত্রাকের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন।


খাওয়ার উপযোগী ছত্রাক জৈব পদার্থ ভেঙে বেড়ে ওঠে। এদের মূল অংশ মাইসেলিয়াম, যা সূক্ষ্ম শিকড়ের মতো জাল তৈরি করে দ্রুত খাদ্য উৎসে ছড়িয়ে পড়ে। মাশরুমের টুপি অংশের তুলনায় মাইসেলিয়াম অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং কম জায়গা প্রয়োজন হয়। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে শিল্প পর্যায়ে খাদ্য উৎপাদনের জন্য মাইসেলিয়াম খুবই উপযোগী।


আরেকটি বড় সুবিধা হল এর গঠন। রান্নার পর মাইসেলিয়ামের নরম ও তন্তুযুক্ত টেক্সচার অনেকটা মাংসের মতো অনুভূতি দেয়। পাশাপাশি এর স্বাদ থাকে হালকা ও নিরপেক্ষ, যা ভেগান খাবার তৈরির সময় বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করে।


গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ১০৬ ধরনের ছত্রাক প্রজাতি পরীক্ষা করেন। কমলা ও কালো গাজরের তরল সাইড স্ট্রিমে এগুলো জন্মানোর ক্ষমতা যাচাই করা হয়। বৃদ্ধি  এবং প্রোটিন উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রধান মানদণ্ড। দেখা যায়, গাজরের সাইড স্ট্রিমে এমনিতেই কার্বন ও নাইট্রোজেনের অনুপাত অনুকূল, ফলে অতিরিক্ত উপাদান ছাড়াই ভাল মানের ফাঙ্গাল প্রোটিন তৈরি সম্ভব।


সব পরীক্ষার মধ্যে একটি ছত্রাক সবচেয়ে ভাল ফল দেখায়। প্লিউরোটাস জামোর বা পিঙ্ক অয়েস্টার মাশরুম উভয় ধরনের গাজরের সাইড স্ট্রিমেই দ্রুত ও স্থিতিশীলভাবে বেড়ে ওঠে এবং উচ্চমাত্রার প্রোটিন উৎপাদন করে।

 

&t=136s
এই গবেষণা দেখাচ্ছে, খাদ্য বর্জ্য কমানো এবং ভবিষ্যতের টেকসই প্রোটিন চাহিদা মেটাতে গাজরের মতো সাধারণ সবজির অবশিষ্টাংশও কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।