আজকাল ওয়েবডেস্ক: OnlyFans কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি ব্লু—আসল নাম টিয়া বিলিঞ্জার—আবারও আন্তর্জাতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। এক দিনে ১,০৫৭ জন পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপনের দাবি করে ‘বিশ্ব রেকর্ড’ গড়ার পর এবার আলোচনার ঝড় তুলেছে তাঁর পরিবারের ভূমিকা নিয়ে করা মন্তব্য। সম্প্রতি একটি ভাইরাল পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বনি জানান, তাঁর বাবা-মা তাঁর কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত এবং তাঁর পেশাগত কর্মকাণ্ডে তাঁরা গর্ববোধ করেন।
পডকাস্টে বনি বলেন, তাঁর এই কাজকে তিনি একটি “পারিবারিক ব্যবসা” হিসেবেই দেখেন। সাক্ষাৎকার চলাকালীন তিনি দাবি করেন, রেকর্ড ভাঙার পর তাঁর বাবা তাঁকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। অনেকেই বিষয়টিকে অস্বাভাবিক ও বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেছেন। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ওই ভিডিও ক্লিপটি একদিনেই লক্ষাধিকবার দেখা হয় এবং মন্তব্যের ঘরে ক্ষোভ, বিস্ময় ও নৈতিক প্রশ্নে ভরে ওঠে।
বনি ব্লু দাবি করেছেন, তিনি এক দিনে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ১,০৫৭ জন পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করে আগের রেকর্ড ভেঙেছেন। এর আগে ২০০৪ সালে লিসা স্পার্কস ৯১৯ জনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের দাবি করেছিলেন। বনি জানান, প্রতি ব্যক্তির জন্য সময় ছিল গড়ে মাত্র ৪০ সেকেন্ড। তিনি স্বীকার করেন, এই অভিজ্ঞতা মূলত শারীরিক আনন্দের চেয়ে একটি “চ্যালেঞ্জ” এবং পেশাগত শেখার অংশ ছিল। তাঁর কথায়, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের শরীর এবং পুরুষদের সম্পর্কে নতুনভাবে জানতে সাহায্য করেছে।
https://www.youtube.com/shorts/qNNr5etY528
এই কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়লেও বনি নিজেকে আত্মবিশ্বাসী বলেই তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, মানুষ ভুলভাবে ধরে নেয় যে এই ধরনের কাজের সঙ্গে আত্মসম্মানের অভাব জড়িয়ে থাকে। বরং তাঁর মতে, জীবনে এই প্রথম তিনি নিজের প্রতি সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধাশীল। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি সম্মতি ও পারস্পরিক সম্মানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই কাজ করেন।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও মুখ খুলেছেন বনি। তিনি জানিয়েছেন, স্বামী অলিভার ডেভিডসনের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে, তবে এই বিচ্ছেদের সঙ্গে সাম্প্রতিক যৌনচ্যালেঞ্জের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁদের সম্পর্ক অনেক আগেই ভেঙে পড়েছিল এবং এখনও দু’জনের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ভবিষ্যৎ সম্পর্ক প্রসঙ্গে বনি বলেন, আপাতত প্রেম বা সংসার তাঁর অগ্রাধিকার নয়। প্রয়োজনে একাই সন্তান নেওয়ার কথাও তিনি বিবেচনা করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন।
যৌনস্বাস্থ্য ও ঝুঁকি প্রসঙ্গে বনি স্বীকার করেছেন, এত সংখ্যক মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে ঝুঁকি রয়েছে এবং সে বিষয়ে তিনি সচেতন। নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করান বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর এই বক্তব্য জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
বনি ব্লু ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, এই রেকর্ড ভাঙাই শেষ নয়। আগামী দিনে নিয়মিত এমন আয়োজন করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। ফলে যৌন স্বাধীনতা, ডিজিটাল পুঁজিবাদ, সামাজিক নৈতিকতা এবং পারিবারিক ভূমিকা—এই সব প্রশ্ন ঘিরে বিতর্ক যে আরও তীব্র হবে, তা প্রায় নিশ্চিত।
