আজকাল ওয়েবডেস্ক: জাতীয় সড়কের মতো এবার কি সমুদ্রপথেও ‘টোল’ দিতে হবে? হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বিদেশি জাহাজগুলোর ওপর কর বসানোর তোড়জোড় শুরু করল ইরান। বৃহস্পতিবার সে দেশের এক সাংসদ জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ব্যবহার করে যারা ব্যবসা করছে, তাদের থেকে এবার কর আদায়ের কথা ভাবছে তেহরান।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে ইরানের এই চালে বিশ্ববাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকেই এই এলাকায় দাপট বাড়িয়েছে ইরান। তাদের দাবি, শত্রু দেশ বা তাদের ঘনিষ্ঠদের কোনও জাহাজ এই পথ দিয়ে যেতে গেলেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। এবার সেই নজরদারিকেই আয়ের পথ বানাতে চাইছে তারা। ইরানের সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, দেশের সংসদে এই মর্মে একটি বিল আনা হচ্ছে। সেখানে বলা হয়েছে- খাবার, তেল বা অন্য কোনও পণ্যবাহী জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করলেই ইরানকে কর ও শুল্ক দিতে হবে।
এখানেই শেষ নয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এক উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন যে, যুদ্ধ মিটলে এই জলপথে ‘নতুন শাসন’ কায়েম হবে। যারা ইরানের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে হাত-পা বেঁধে দিতে চেয়েছিল, এবার তাদের জাহাজ চলাচলের ওপর পাল্টা রাশ টানবে তেহরান।
অন্যদিকে, এহেন যুদ্ধের আবহে স্বস্তি দিল দুই ভারতীয় জাহাজ। রান্নার গ্যাস বোঝাই ‘নন্দাদেবী’ ও ‘শিবালিক’ গুজরাটের বন্দরে নিরাপদে পৌঁছেছে। এই দুই জাহাজে যে পরিমাণ গ্যাস এসেছে, তা ভারতের এক দিনের চাহিদার সমান। তবে হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে রয়েছেন আরও ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক। তাঁদের ফেরাতে তৎপর দিল্লি।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৩ ডলার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের জেরে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরেও বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের ইরান নীতির প্রতিবাদে ইস্তফা দিয়েছেন সে দেশের সন্ত্রাসদমন শাখার প্রধান জো কেন্ট। তাঁর অভিযোগ, ইজরায়েলি লবির চাপে অকারণ এই যুদ্ধ শুরু করেছে ট্রাম্প সরকার।
এরই মধ্যে বুধবার ভোরে লেবাননের রাজধানী বেইরুটেও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। কোনও সতর্কতা ছাড়াই সাধারণ মানুষের বাসস্থানে বোমা পড়ার খবর মিলেছে।
