আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ বাংলাদেশের এক গ্রামীণ এলাকায় অবিশ্বাস্য এক প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। একটি পরিবার দাবি করেছিল, এক জিন (djinn) তাদের ১৫ বছরের মেয়ের লিঙ্গ পরিবর্তন করেছে এবং প্রমাণ হিসেবে নাকি তার খৎনাও (circumcision) সম্পন্ন করেছে। এই অলৌকিক দাবিতে গ্রামজুড়ে হইচই পড়ে যায় এবং চিকিৎসা ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানের আশায় বহু মানুষ ওই পরিবারের বাড়িতে ভিড় করতে শুরু করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় মানুষজন ওই কিশোরীর মাধ্যমে জিনের ‘মদদ’ পেতে টাকা দিতে শুরু করেন। কেউ দীর্ঘদিনের অসুখ, কেউ সন্তান না হওয়া, কেউ আবার পারিবারিক অশান্তি দূর করার আশায় সেখানে হাজির হন। ধীরে ধীরে এটি একটি লাভজনক প্রতারণার ব্যবসাতে পরিণত হয়।
তবে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে। কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর মুর্শেদ জানান, “চিকিৎসক পরীক্ষার পর দেখেন, মেয়েটির কোমরের সঙ্গে একটি নকল পুরুষাঙ্গ বেঁধে রাখা হয়েছিল। লিঙ্গ পরিবর্তন বা খৎনার কোনও প্রশ্নই নেই।”
পুলিশের ভাষায়, কিশোরী ও তার বাবা-মা মিলেই এই নাটক সাজিয়েছিলেন। মঞ্জুর মুর্শেদ বলেন,“মেয়েটি ও তার বাবা-মা দাবি করতেন, এক জিন তাদের সাহায্য করছে এবং সেই জিনই মানুষের নানা রোগ ও সমস্যার সমাধান করতে পারে। এই বিশ্বাসকে পুঁজি করেই তারা টাকা আদায় করছিল।”
তিনি আরও জানান, যখন গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে যে মেয়েটির শুধু লিঙ্গ পরিবর্তনই হয়নি, বরং ‘অলৌকিক খৎনাও’ করা হয়েছে, তখন লোকজন আরও বেশি করে সেখানে ছুটে আসতে থাকে। পুলিশ মনে করছে, অন্ধ বিশ্বাস ও ধর্মীয় কুসংস্কারকে কাজে লাগিয়ে এই পরিবার বহু মানুষকে প্রতারিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা রুজু করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হবে।
বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান, এবং সমাজে জিনের অস্তিত্বে বিশ্বাস ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এই বিশ্বাসকে ঘিরে বহু তথাকথিত ওঝা ও তান্ত্রিক দাবি করেন, তারা নাকি জিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন বা তাদের সাহায্যে রোগ সারাতে পারেন। গ্রামাঞ্চলে এখনও অনেক মানুষ চিকিৎসকের বদলে এই ধরনের ‘অলৌকিক সমাধান’-এর আশায় টাকা খরচ করেন।
এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাস কীভাবে দরিদ্র ও অসচেতন মানুষকে সহজেই প্রতারণার শিকার বানাতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং এমন দাবিতে বিশ্বাস না করে চিকিৎসা ও আইনি পথে সমস্যার সমাধান খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
