আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে পাঁচ দিনের বিরতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণা সামনে আসার পরে কাবুলে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস, সমাজমাধ্যমের একটি পোস্টে সরাসরি জানায়, “ইরানের সতর্কবার্তার পরে ট্রাম্প পিছু হটছেন।”
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল-ইরানের সংঘাত শুরু হয়। সেই সংঘাতের ২৪ দিন বাদে, মার্চের ২৩ তারিখ, গত সোমবার ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে টানা দু’দিন ব্যাপী আলোচনা করেছেন তিনি। বর্তমান যুদ্ধকালীন উত্তাল পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন তারপর। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইরান সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাও আবার ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ বা মিম (meme) –এর আকারে।
ইরান ট্রাম্পের এই বক্তব্য একেবারেই উড়িয়ে দেয়। সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্সিয়ান ভাষায় ইরান জানায়, যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান সতর্ক করেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর উপরে কোনও রকমের আক্রমণ যদি করা হয়, তাহলে সে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা করবে। ইরানের দাবি, এই তীব্র হুঁশিয়ারির পরেই ট্রাম্প পিছিয়ে গিয়েছেন এবং আপাতত আক্রমণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থিত ইরানি কন্স্যুলেট আরও এক ধাপ এগিয়ে এই বিষয়ে মন্তব্য করে। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি থেকে প্রচারিত এই ভিডিও-এর সঙ্গে ক্যাপশনে সরাসরি লেখা হয়, “হ্যাঁ, ট্রাম্প মিথ্যে বলছেন। #অপারেশনএপিকফেইল (অপারেশন এপিক বিফল হয়েছে)।” এর পাশাপাশা তারা এও দাবি করে যে, ট্রাম্পের এই ‘আলোচনা’-এর কথা সম্পূর্ণ রূপে মিথ্যে। আসলে ইরানের সাম্প্রতিকতম হুমকি থেকে বিশ্বের নজর ঘোরানোর আশায় এই আলোচনা করার মুখোশ পরেছে ট্রাম্প। এই ঘটনার পরে সমাজমাধ্যম ভরে গিয়েছে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে।
এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, হমুজ প্রণালী যদি বিশ্বের জন্য খুলে না দেওয়া হয়, তাহলে আমেরিকা ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে কেন্দ্র করে আক্রমণ চালাবে। সেই হুমকির প্রেক্ষিতেই ইরানের পালটা হুঁশিয়ারি, আমেরিকার সামগ্রিক জ্বালানি অবকাঠামোকে আক্রমণের কেন্দ্র করবে তারা। তারপরেই ট্রাম্পের এই পাঁচ দিনের যুদ্ধ বিরতির সিদ্ধান্ত।
এই পুরো ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল কূটনৈতিক আলোচনা। বিশ্ব এর আগে দেখেছে, সরকার সংযত মার্জিত ভাষায় বিবৃতি দিত। কিন্তু, এখন সমাজমাধ্যমে মিম (meme), বা পপ-কালচার ব্যাবহার করে দেওয়া হচ্ছে বার্তা বা বিবৃতি। ইরানের এই ডার্ক হিউমার পদ্ধতিতে বিবৃতি দেওয়া, শুধু নিজদের অবস্থানকেই বিশ্বের কাছে স্পষ্ট করছে তাই নয়, বিশ্বে সামনে প্রতিপক্ষকে মানসিক চাপেও রাখছে। সরাসরি আক্রমণ না করেও প্রতিপক্ষর বিশ্বাসযোগ্যতাকে বিশ্বের সামনেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে অবলীলায়।
সামরিক যুদ্ধের পাশাপাশি বিশ্ব দেখছে ইনফর্মেশন ওয়ারফেয়ার বা তথ্যযুদ্ধের এক অন্য রূপ। সমাজমাধ্যমকে এখন কূটনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যাবহার করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষের দাবি শুধু অস্বীকারই করা হচ্ছে তাই নয়, জনসমক্ষে তাকে তুলে ধরা হচ্ছে হাস্যকরভাবে।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এখন শুধু মাটি-সমুদ্র-আকাশেই সীমবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমেও। এই যুদ্ধ এখন লড়ছে সাধারণ মানুষেরাও। নিজেরদের ফোনের মাধ্যমে, সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে। এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, দীর্ঘ যুদ্ধে শব্দ আর হাস্যরস কখনও কখনও বুলেটের মতো তীক্ষ্ণ হয়ে প্রতিপক্ষের মন ভেঙে দিতে পারে। সমাজমাধ্যমও হয়ে উঠতে পারে শান দেওয়া অস্ত্রের মতো ধারালো।
