আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের সর্বোচ্চ পদে বসার পর তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বেশ কয়েকবার তাঁর বার্তা প্রকাশ্যে এলেও দেখা না যাওয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলি খামেনেইকে ঘিরে নানা জল্পনা। বিতর্ক বাড়িযেছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের দাবি, মোজতবা বেঁচে আচেন কিনা তা তিনি জানেন না। নানা চর্চার মধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম রবিবার জানিয়েছে, মোজতবা খামেনেই একটি লিখিত বার্তার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সমর্থনের জন্য ইরাকের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের পুত্র মোজতবা খামেনেই। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতেই মার্কিন-ইজরায়েল বিমান হামলায় নিহত হয়েছিলেন আয়াতুল্লা। তারপর সর্বোচ্চ কুর্সিতে বসানো হয় আয়াতুল্লার ছেলে মোজতবাকে। এরপর থেকে এখনও পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি তিনি। কেবল হাতেগোনা কয়েকটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন।

ব্যক্তিগতভাবে জনসমক্ষে উপস্থিত হতে না পারার বিষয়টি তাঁর শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে তীব্র জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি বিমান হামলায় পাওয়া আঘাত থেকে ক্রমশ সেরে উঠছেন।

সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ  জানিয়েছে, নয়া বার্তায় মোজতবা খামেনেই- ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ এবং তাঁদের দেশের প্রতি সমর্থনের জন্য (ইরাকের) সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ও ইরাকের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বার্তায় ইরাক-ভিত্তিক গ্র্যান্ড আয়াতুল্লা আলি সিস্তানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি শিয়া মুসলমানদের কাছে অন্যতম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।

সংবাদ সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইরাকের একটি শিয়া রাজনৈতিক দল—'ইসলামিক সুপ্রিম কাউন্সিল অফ ইরাক' এবং বাগদাদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মধ্যে একটি বৈঠকের পর এই বার্তাটি দিয়েছেন মোজতবা।

কীভাবে বা কোন মাধ্যমে এই বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আর কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনেই এই পদে নিজের প্রথম বিবৃতি এবং পারসি নববর্ষ 'নওরোজ' উপলক্ষে একটি বার্তা প্রকাশ করেছেন।

টেলিভিশনে অন্য একজন উপস্থাপকের মাধ্যমে পাঠ করা এই দু'টি বিবৃতিতেই যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম নিয়মিত মোজতবা খামেনেইর ছবি প্রকাশ করে থাকে, তবে ছবিগুলো সাম্প্রতিক সময়ের কি না সে সম্পর্কে কোনও ইঙ্গিত দেওয়া হয় না। এছাড়া টেলিগ্রাম এবং 'এক্স' প্ল্যাটফর্মে তাঁর নিজস্ব দাপ্তরিক অ্যাকাউন্টও রয়েছে।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ওয়াশিংটন একটি "শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির" সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ওই ব্যক্তি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নন। ট্রাম্প বলেছিলেন, "আমরা ওই পুত্রের (মোজতবা) কাছ থেকে কোনও খবর পাইনি... তিনি বেঁচে আছেন কি না, তা-ও আমরা জানি না।"

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে মোজতবা খামেনেই হলেন ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা। তিনি তাঁর পিতা এবং বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লা রুহুল্লাহ খামেনেই-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।