আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য প্রাচ্যের আকাশ কালো। হামলা, পালটা হামলা, মৃত্যু মিছিলে আতঙ্ক। মধ্য প্রাচ্যের এই পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিশ্বের। সংঘর্ষে ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই। তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন? সেদিকে যেমন নজর, তেমনই নজর ইরানের সঙ্গে সাত দেশের সম্পর্কের দিকেও। ইরান মূলত সাতটি দেশের সঙ্গে নিজেদের সীমান্ত ভাগ করে নেয়। অর্থাৎ ইরানের সীমান্ত বরাবর, আরও সাত দেশের সীমান্ত। কিন্তু সেই সাত দেশের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক কেমন?
তথ্য, প্রায় সব প্রতিবেশীর সঙ্গেই ইরানের সম্পর্ক বেশ জটিল। তার আগেই বলা যাক, কোন কোন সাত দেশ, ইরানের কোন দিকে অবস্থিত। অর্থাৎ কোথায় কোথায়, কোন দেশের সঙ্গে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সীমান্ত ভাগ করে নিতে হয় ইরানকে-
ইরানের উত্তরে আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, তুর্কমেনিস্তান এবং ক্যাস্পিয়ান সাগর।
পূর্বে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান।
দক্ষিণে পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগর।
পশ্চিমে তুরস্ক এবং ইরাক।
ইরানের উত্তরে সীমান্তে অবস্থিত আর্মেনিয়া, তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। অভ্যন্তরীন সমীকরণ এবং ধর্মীয় অবস্থানের কারণে ইরানের সঙ্গে আজারবাইজানের সু-সম্পর্ক থাকতেই পারত, কিন্তু সেখানেও সমস্যা রয়েছে একটি। আজারবাইজানে উল্লেখযোগ্য শিয়া জনসংখ্যা রয়েছে, কিন্তু ইরানে ক্ষমতায় থাকা শিয়া ধর্মযাজকরা এর সঙ্গে একমত নন। আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়া দীর্ঘদিন ধরে নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে লড়াই করে আসছে, যা আজারবাইজানের একটি অংশ কিন্তু জাতিগত আর্মেনীয়দের বাসস্থান। ইরান এই ঘটনায় আর্মেনিয়াকে সমর্থন করেছে। তেহরান আজারবাইজানকে তার সীমান্তের মধ্যে আজেরি বিদ্রোহ উস্কে দেওয়ার এবং ইরানের উপর গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্য ইজরায়েলকে তার ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে। ফলে প্রতিবেশী দেশ হলেও, সম্পর্ক সাধারণ প্রতিবেশীদের মতো নেই।
আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কেও জটিলতা। হেলমান্দ নদীর জলের উপর ইরানের অধিকার নিয়ে দুই প্রতিবেশীর বিড়ধ দীর্ঘদিনের। সরকার এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গে নানা সময়ে নানা খাতে বয়েছে এই দুই দেশের সম্পর্ক। যেমন- তালেবান শাসনকালে তেহরানের সম্পর্ক ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। ১৯৯৮ সালে, সুন্নি-কট্টরপন্থী তালেবানরা আফগানিস্তানের মাজার-ই-শরিফে ১০ জন ইরানি কূটনীতিক এবং একজন সাংবাদিককে হত্যা করেছিল। তবে, ইরান আফগানিস্তান থেকে মার্কিন প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছে। বর্তমান তালেবান এবং তেহরান, খুব মেপে দু'দসেহের সম্পর্ককে হিসেব করে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক একেবারেই সহজ নয়। ইরান ও পাকিস্তান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে থাকে, কিন্তু নানা কারণেই তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তার মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক চাপ এবং শিয়া-সুন্নি প্রতিদ্বন্দ্বিতা। অন্যদিকে, ইরান ও পাকিস্তান উভয়ই বেলুচ জঙ্গিবাদের সঙ্গে লড়াই করেছে। বর্তমানে, পাকিস্তানের জন্য, ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের সাথে একটি সুসম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রিয়াদ ইসলামাবাদের একটি প্রধান আর্থিক সাহায্যকারী। পাকিস্তানও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কিন মুলুকের মন যুগিয়ে চলার চেষ্টা করে চলেছে।
সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, ইরাক-ইরান সম্পর্ক। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে ইরানের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসে। কিন্তু মাত্র এক বছর পর, ইরাক এটি আক্রমণ করে। ওই যুদ্ধে নিহত হন বহু মানুষ। সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। ইরান ইরাকের আধাসামরিক গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন করে, যাদের একসঙ্গে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস বলা হয়।
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বেজায় জটিল তুরস্কের। যদিও বর্তমান ইরান এবং তুরস্ক স্বীকার করে যে তাদের কারোরই সামরিক দিক থেকে অপরের উপর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই এবং বাস্তবিকভাবে তারা মূলত শান্তিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তবুও এই দুই দেশের মধ্যে এমন কিছু সমীকরণ রয়েছে, তাতে আপাত শান্ত অবস্থান সত্বেও চাপা মেঘ রয়েছেই।
&t=13s
