আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের অশান্ত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার ডেরা ইসমাইল খান জেলার এই ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পুলিশের জানিয়েছে, সরকারি সমর্থক ও সমাজকর্মী নূর আলম মেহসুদের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানের সময় এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী বিস্ফোরকভর্তি জ্যাকেট পরে এসেছিলেন।
বিয়ের অনুষ্ঠানের মধ্যে উপস্থিত অতিথিরা নাচগানে মত্ত ছিলেন। সেই সুযোগেই হামলা করা হয়। শক্তিশালী বিস্ফোরণে বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে। ফলে উদ্ধারকাজে বড় সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে উদ্ধারকারী দলকে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে একজন ‘গুড তালিবান’ রয়েছেন।
এই শব্দটি সাধারণত সেইসব জঙ্গিদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যারা সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে এসেছেন। বাকি নিহতরা তাঁর আত্মীয়স্বজন বলে জানানো হয়েছে।
আহত ও নিহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, বেশ কয়েকজন আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। হামলাকারীর কোনও সহযোগী ছিল কী না তা খতিয়ে দেখা হয়। সংবাদসংস্থা এপি এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, শান্তি কমিটির নেতা ওয়াহিদুল্লাহ মেহসুদ, যিনি জিগরি মেহসুদ নামেও পরিচিত, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
তবে পাকিস্তানি তালিবান বা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর জড়িত থাকার সন্দেহ করছে নিরাপত্তা বাহিনী। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক রক্তক্ষয়ী হামলার সঙ্গে এই সংগঠনের নাম জড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় শান্তি কমিটির চার সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগেও ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে একই প্রদেশে শান্তি কমিটির একটি দপ্তরে হামলায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল।
