আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্ষবরণের রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে সুইৎজারল্যান্ডের ক্র্যানস মন্টানার নামক একটি বার। একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে অগ্নিকাণ্ডের ফলে। এই ঘটনার পরেই সামনে এসেছে এই বারের ইতিহাস।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বারটি বহু বছর ধরেই ওই অঞ্চলের একটি পরিচিত ল্যান্ডমার্ক। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “যে বারে আগুন লাগে, সেটি এলাকার এক ঐতিহ্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। অন্তত ৪০ বছর ধরে এই বারটি বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী রয়েছে।”

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, এক সময় এই বারটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। “এটি একটি বড় বার তবে খুব অভিজাত ধরনের নয়। তবে ক্র্যানস মন্টানা একটি অত্যন্ত অভিজাত স্কি রিসর্ট। সুইজারল্যান্ডের এই এলাকায় বিলাসবহুলতার ছোঁয়া রয়েছে। আশির দশকে এই জায়গাটি ওয়ার্ল্ড কাপ স্কি প্রতিযোগিতার জন্য বিখ্যাত ছিল, যা আবার ফিরছে।”

এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসির প্রতিবেদনে। নববর্ষের মতো উৎসবের সময় এই বারে সাধারণত কেমন ভিড় হয়, তাও তুলে ধরা হয়েছে রিপোর্টে। “এটি মূলত বিয়ারের জন্য পরিচিত। মূলত, যুব সম্প্রদায়ই এই বারে ভিড় করেন। এখানে মূলত তরুণ-তরুণী, স্থানীয় সুইস বাসিন্দা এবং উপত্যকা অঞ্চল থেকে আসা মানুষজন মিলিয়ে এক মিশ্র ভিড় থাকে।

অনেকেই ক্র্যানস মন্টানায় এসে উৎসব উদযাপন করেন, তাঁরাও এই বারে আসেন। জানা গিয়েছে, বারটির জনপ্রিয়তার কারণে সেখানে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের উপস্থিতিও স্বাভাবিক বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “বিভিন্ন দেশের মানুষজনের মিশ্রণও থাকার কথা।”

প্রসঙ্গত, ক্র্যানস মন্টানা সুইৎজারল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি সুপরিচিত পর্যটন শহর। গ্রীষ্ম ও শীত দুই সময়েই পর্যটকদের কাছে এই জায়গা অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিলাসবহুল কেনাকাটা, নামী রেস্তোরাঁ এবং মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য এই রিসর্টের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। এই অঞ্চলটি ম্যাটারহর্ন পর্বতের প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এবং সুইৎজারল্যান্ডের রাজধানী বার্ন থেকে প্রায় দু’ঘণ্টার পথ।

গ্রীষ্মকালে ক্র্যানস মন্টানার নয়টি হ্রদ, আলপাইন অরণ্য ও সবুজ তৃণভূমি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। শীতকালে এখানে বরফে ঢাকা ঢাল, গ্লেসিয়ার মালভূমিতে ক্রস-কান্ট্রি স্কিইংয়ের পথ, টোবগান রান, স্নো পার্ক এবং শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত সুইৎজারল্যান্ডের বৃহত্তম আইস রিঙ্কগুলির একটি পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।

উল্লেখ্য, ঘটনার পর সুইস পুলিশ জানিয়েছে, নববর্ষ উদযাপনের সময় বিলাসবহুল আলপাইন স্কি রিসোর্ট শহর ক্র্যানস মন্টানার লে কনস্টেলেশন নামক একটি বারে আগুন লাগে। কীভাবে ঘটল এই অগ্নিকাণ্ড? পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে এটি কোনও সন্ত্রাসী হামলা নয় বরং একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রধান জানিয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪০ জনের।

পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় কন্সটেলেশন বারে নববর্ষ উদযাপনের সময় স্থানীয় সময়ে রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ বিস্ফোরণটি ঘটে বলে জানা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ছবি ও ভিডিও'তে দেখা গিয়েছে, বারে নববর্ষের আগের রাতের উদযাপন চলছিল, সেখানে আগুন জ্বলছে। যদিও ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন।

হঠাৎ বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার ঘটনায় সেখানে হাজির সকলের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। আতঙ্কে বহু মানুষ বারে থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল ও উদ্ধারকারী দল। আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনাজনিত কোনও কারণ নাকি গ্যাস বা অন্য কোনও দাহ্য পদার্থ থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নববর্ষের রাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় সুইজারল্যান্ডজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুইস সংবাদমাধ্যম ব্লিক জানিয়েছে, একটি কনসার্টের সময় আতশবাজির কারণে আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে পুলিশ কারণ স্পষ্ট করেনি।