আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের সার্বিক প্রশাসনিক পরিস্থিতি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার লক্ষ্যে বুধবার সচিবালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টাস্ক মনিটরিং সিস্টেমের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে আরও সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আপোষ করা হবে না। তিনি রাজ্যে ড্রাগস বিরোধী অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উপরও গুরুত্বারোপ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। বিশেষ করে ধর্মনগর, কুমারঘাট ও বিলোনীয়া হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা, পরিকাঠামো এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়াও বিভিন্ন জেলায় মিজেলস পরিস্থিতি ও টিকাকরণ কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এইডস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। সিপাহীজলা জেলার এক দিব্যাঙ্গ কন্যার এইমসে চিকিৎসার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন । একইসঙ্গে বিভিন্ন হোমের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উপর জোর দেন। বিশ্রামগঞ্জে নির্মীয়মান রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের কাজের অগ্রগতিও তিনি খতিয়ে দেখেন।
পানীয়জল সমস্যা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খরার মরশুমে কোথাও যেন জল সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি জল জীবন মিশনের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগতমান বজায় রেখে সম্পন্ন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী পাথর বোঝাই যানবাহনের চলাচলের উপর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দেন। বিভিন্ন বেইলি ব্রিজের সংস্কার, জাতীয় সড়কের নির্মাণ ও মেরামতির কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার পাশাপাশি বর্ষাকালে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত সংস্কারের উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন। এছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে সময়মতো আবর্জনা অপসারণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
বিদ্যালয়গুলির উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ এবং জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যাও বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রী উদয়পুরের মাতাবাড়ি মন্দির ও সংলগ্ন এলাকার সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ভারপ্রাপ্ত সচিব অপূর্ব রায়, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, সচিব অভিষেক সিং, সচিব পি. কে. গোয়েল, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য সহ বিভিন্ন দপ্তরের সচিব ও পদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও রাজ্যের আটটি জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য আধিকারিকরা ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।















