আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে লখিমপুর খেরি জেলার মহম্মদী বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত 'মিয়াঁপুর' গ্রামের নাম পরিবর্তন করে 'রবীন্দ্রনাথনগর' রাখার ঘোষণা করেছেন। শনিবার এই জেলা সফরে এসে তিনি কেবল নাম বদলই করেননি, বরং কয়েক দশক ধরে শিকড়হীন অবস্থায় থাকা ৩৩১টি বাংলাদেশি হিন্দু পরিবারের হাতে জমির মালিকানা স্বত্ব বা পাট্টা তুলে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্মানে এই গ্রামের নতুন নামকরণ করা হল, যিনি আমাদের জাতীয় সংগীত উপহার দিয়েছেন।

জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং আসল পরিচয় লুকিয়ে রাখার জন্যই এই গ্রামের নাম 'মিয়াঁপুর' রাখা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "এখানে একজনও 'মিয়াঁ' নেই, তা সত্ত্বেও কেন এই নাম দেওয়া হয়েছিল? কংগ্রেস আপনাদের ভোট নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আপনাদের কোনও  অধিকার দেয়নি।" তিনি আরও বলেন যে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে এই হিন্দু পরিবারগুলি এ দেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দীর্ঘকাল ধরে তাঁরা নিজেদের জমিতে অধিকারহীন অবস্থায় থাকলেও, বর্তমান 'ডাবল ইঞ্জিন' সরকার তাঁদের সেই আইনি স্বীকৃতি প্রদান করল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণ করে যোগী বলেন, এই পরিবারগুলি এখন থেকে ভারতের মহান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিচয়ে পরিচিত হবেন।

লখিমপুর খেরির পালিয়া এলাকায় আয়োজিত অন্য একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী থারু উপজাতির ৪,৩৫৬টি পরিবার এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বংশধরদের ২,৩৫০টি পরিবারের হাতেও জমির মালিকানা নথি তুলে দেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন যে, ব্রিটিশ আমলে যাঁরা দেশের জন্য জেল খেটেছেন বা আন্দামানে কালাপানির সাজা ভোগ করেছেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের বংশধরদের জমির অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। ১৯৭৬ সাল থেকে থারু সম্প্রদায়ের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এতদিনে বাস্তবায়িত হল। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, এখন থেকে পুলিশ বা বনদপ্তর আর কাউকে অহেতুক হয়রানি করতে পারবে না।

এই সফরকালে যোগী আদিত্যনাথ লখিমপুর খেরি জেলার উন্নয়নের জন্য ১,৩১১ কোটি টাকার মোট ৫৩৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। পূর্ববর্তী সমাজবাদী পার্টি সরকারকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন যে, আগে উন্নয়ন কেবল 'সাইফাই' এবং একটি নির্দিষ্ট পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন উত্তরপ্রদেশের ২৫ কোটি মানুষই তাঁর পরিবার এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে। সেই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে থারু সম্প্রদায়ের মানুষদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত 'মিথ্যা' মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর এবং এক লপ্তে হাজার হাজার মানুষের হাতে জমির অধিকার তুলে দেওয়া উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে এক বড় মাপের সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।