আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুলিশকে দেখে তড়িঘড়ি পালাতে গিয়েই বিপত্তি। পুণের বিমান নগর এলাকায় একটি স্পা সেন্টারে পুলিশের তল্লাশি চলছিল। এই তল্লাশি চলাকালীনই ঘটল চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে জানালা দিয়ে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হল এক মহিলার। পাশাপাশি ঘটনার জেরে ওই স্পা-র ম্যানেজারও গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই স্পা-র আড়ালে মধুচক্র চালানো হচ্ছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই স্পা সেন্টারে হানা দেয় পুলিশ বাহিনী। জানা গিয়েছে, তল্লাশি চলাকালীন বিভিন্ন ঘরে তরুণী ও খদ্দেরদের দেখা মেলে। তদন্তকারীরা একটি ঘরে ঢুকলে সেখানে দুই মহিলার সঙ্গে ম্যানেজারকে দেখতে পান। পুলিশ দেখে আতঙ্কিত হয়ে ওই মহিলা ও ম্যানেজার দোতলার জানালা দিয়ে নীচে ঝাঁপ দেন। ঘটনাস্থলেই মহিলার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে আহত ম্যানেজারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, পুলিশ পরে ওই স্পা সেন্টার থেকে চারজন তরুণীকে উদ্ধার করেছে। সংশ্লিষ্ট স্পা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নীতি-বহির্ভূত দেহব্যবসা বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, সাতসকালে খবরের শিরোনামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। উত্তরপ্রদেশের মীরাঠের লিসারি গেট এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। সোমবার রাতে এক তিনতলা বাড়িতে বিধ্বংসী আগুনে ঝলসে মৃত্যু হল একই পরিবারের ছয় সদস্যের। মৃতদের তালিকায় রয়েছে মাত্র ছয় মাস বয়সের দুই যমজ বোনও। খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিপুল শোরগোল।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই বাড়ির একতলায় প্রচুর পরিমাণে পোশাক মজুত করা ছিল। সোমবার রাতে যখন পরিবারের পুরুষরা নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন, তখনই আচমকা আগুন লাগে। প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিপত্তি। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন সিঁড়িতে ছড়িয়ে পড়ায় ওপরের তলায় আটকে থাকা বাসিন্দাদের নামার পথ বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবেশীরা সাহসিকতার সঙ্গে মই লাগিয়ে প্রথম তলা থেকে ছয়জনকে উদ্ধার করতে পারলেও বাকিদের প্রাণ বাঁচানো যায়নি৷ ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁদের।
দুর্ঘটনাস্থলের এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি হওয়ায় দমকলের গাড়ি ঢুকতে প্রবল সমস্যার মুখে পড়ে। একদিকে সরু গলি অন্যদিকে আগুনের দাপটে বাড়ির ভেতরে ঢোকা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত পাশের বাড়ির ছাদ টপকে এবং দেওয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকেন উদ্ধারকারীরা। সেখান থেকে পাঁচ শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সুপার আয়ুষ বিক্রম সিং জানান, এলাকাটি জনবসতিপূর্ণ হওয়ায় কাজ চালানো কঠিন ছিল। কেউ কেউ গ্যাস লিক করার অভিযোগও তুলেছেন। বাড়ির ভেতরে মজুত বিপুল পরিমাণ কাপড় আগুনকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ও দমকল অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। পুরো ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে৷
