আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে মহারাষ্ট্রের বাঁধগুলিতে যথেষ্ট পরিমাণে জল রয়েছে। তারপরেও মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস জল বুঝে খরচ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, “আসন্ন বর্ষায় এল নিনোর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে বৃষ্টিপাত কম হতে পারে, বা অনিয়মিত হতে পারে। ফলে রাজ্যে জল সঙ্কটের আশঙ্কা রয়েছে।” এই আশঙ্কায় নিজের রাজ্যবাসী এবং সরকারি দপ্তরগুলিকে প্রয়োজন বুঝে জল খরচ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন থেকে পরিকল্পনা করে জল খরচ না করলে এল নিনোর প্রভাবে বছরের শেষে জনসাধারণের অসুবিধা হতে পারে। এল নিনো আসলে একটি জলবায়ুগত সমস্যা। প্রশান্ত মহাসাগরের জলে অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধি হলে বাতাসের দিক পরিবর্তিত হয়ে যায়। ফলে ভারতের দিকে আসা বর্ষার বাতাস দুর্বল হতে থাকে। ফলে বৃষ্টি কম হয় কিংবা অনিয়মিত হয়ে পড়ে। তখন পানীয় জলের ঘাটতি দেখা দেয়। চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ফসল কম হওয়ার ফলে দামও বাড়ে। প্রতিদিনের জীবনযাপনে সমস্যা তৈরি হয়। 

এই সমস্যার আশঙ্কা করেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, জল পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করার জন্য। বর্তমানে মহারাষ্ট্রের বাঁধগুলিতে মোট ব্যবহারযোগ্য জল মজুত রয়েছে ৬৫৩.৬৩ টিএমসি। এক টিএমসি মানে ২৮.৩২ বিলয়ন লিটার জল। গত বছর মহারাষ্ট্রের বাঁধে এই সময়ে জল ছিল ৫৫১.৮৬ টিএমসি। অর্থৎ এবছরে প্রায় ১০১.৭৭ টিএমসি লিটার অতিরিক্ত জল মজুত রয়েছে। তবে প্রশাসনের নির্দেশ, এই অতিরিক্ত মজুত জল দেখে আত্মতুষ্ট হলে আখেরে বিপদে পড়তে হতে পারে জনসাধারণকে। 

জলসম্পদ দপ্তরের মুখ্য সচীব দীপক কাপুর মন্ত্রীসভায় বিষয়টি তুলে ধরেন। সেখানে এল নিনোর প্রভাবে কী হয়েছিল সেই পরিসংখ্যান পেশ করেন। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে মজুত প্রায় ১২% কমে গিয়েছিল। ২০১৫ সালে আরও কমে প্রায় ১৪%-এ গিয়ে ঠেকেছিল। এর ফলে রাজ্যের বহু জায়গায় তীব্র জলসঙ্কট দেখা গিয়েছিল। 

গত মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কঠোর হাতে জল-খরচ সামলাতে হবে। জল সংরক্ষণের পরিকল্পনা এখনই তৈরি করতে হবে এবং সেই পরিকল্পণা অনুযায়ী রাজ্যে জল খরচ করতে হবে। বৃষ্টি কম হলে পানীয় জলে ঘাটতি কোনওভাবেই যেন না হয় সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিলেন তিনি। পাশাপাশি চাষের জমিতেও যেন জলে জোগানে ঘাটতি না পড়ে। 

রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাঁধে মজুত জলের পরিমাণ যথাক্রমে, জয়কওয়াড়িতে ৪২.০৩ টিএমসি, কোয়নাতে ৩৩.৬২ টিএমসি, পেঞ্চ প্রকল্পে ২৬.৫৭ টিএমসি, এবং গোসিখুর্দে ১৪.৩১ টিএমসি তথ্য তেমনটাই। সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রে এ বছর আগের বেশ কয়েক বছরের তুলনায় মজুত জলের পরিমাণ ভাল। কিন্তু ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এল নিনোর প্রভাবে বৃষ্টি কম হলে বা অনিয়মিত হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। তাই রাজ্য সরকার আগে থেকেই সতর্ক হতে বলছে।