আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনে কারচুপি বা ‘ভোটচুরি’র অভিযোগে এবার সরাসরি দেশের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল বিরোধী শিবিরের ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) মঞ্চ। দীর্ঘ প্রায় দু’বছর পর সোমবার দিল্লিতে আয়োজিত এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে দেশের ২৫টি বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছিলেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জর  মতো হেভিওয়েট নেতাদের উপস্থিতিতে এই বৈঠক রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বৈঠক শেষে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এক বার্তায় জানান, এখন থেকে আর দীর্ঘ বিরতি নয়, বরং প্রতি দু’মাস অন্তর ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং জোটের পরবর্তী বৈঠকের আসর বসবে হায়দরাবাদে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে খাড়গে দাবি করেন, দেশের বিপজ্জনক অর্থনৈতিক অবস্থা, লাগামহীন কর্মহীনতা, মূল্যবৃদ্ধি এবং কৃষকদের সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করতে অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে হবে কেন্দ্রকে। একই সাথে নিট (NEET) এবং সিবিএসই (CBSE) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির কারণে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন করার দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে লাগাতার আন্দোলন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী মঞ্চ।

তবে এই মেগা বৈঠকের ঠিক আগেই বিরোধী জোটের অন্দরের ফাটল ও তীব্র ক্ষোভের ছবিটাও প্রকাশ্য চলে এসেছে। কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে লিখিতভাবে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছে সিপিআই(এম)। খাড়গেকে পাঠানো এক চিঠিতে সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, বাস্তবতা অনুযায়ী বিভিন্ন রাজ্যে হয়তো শরিক দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে লড়বে, কিন্তু কেরলে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা যেভাবে লাগাতার সিপিআই(এম)-কে আক্রমণ করছে এবং বিজেপির সঙ্গে আঁতাতের কাল্পনিক অভিযোগ তুলছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। কেরালায় নির্বাচনী প্রচারে খোদ রাহুল গান্ধী তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে ইডি তদন্তের দাবি তুলেছিলেন। সিপিআই(এম)-এর স্পষ্ট বক্তব্য, এই দ্বিমুখী আচরণের ব্যাখ্যা না মিললে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের প্রাসঙ্গিকতাই প্রশ্নের মুখে পড়বে।

এদিন বৈঠকে যোগ দেওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাসও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁদের আপত্তির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে একই সাথে কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের নীতি নিয়ে তোপ দেগে তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশ নীতিতে বিপর্যয় ডেকে এনেছে এই সরকার। একটার পর একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর বুলডোজার চালানো হচ্ছে, যার ফলে প্রতিটি নির্বাচন তার স্বচ্ছতা হারাচ্ছে। বিজেপি কেবল ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে না, বরং বিরোধী রাজনৈতিক পরিসরটাকেও গায়ের জোরে দখল করতে চাইছে, যার বড় উদাহরণ পশ্চিমবঙ্গ। ব্রিটাসের মতে, এই স্বৈরাচারী আক্রমণ প্রতিরোধ করতে এবং মানুষের ক্ষোভকে সঠিক দিশা দিতে এই মুহূর্তে সব বিজেপি বিরোধী দলের একজোট হয়ে আন্দোলনে নামা অত্যন্ত জরুরি।