আজকাল ওয়েবডেস্ক: গাড়ির তেলের ট্যাংকের ধারণক্ষমতা ৪২ লিটার, অথচ পেট্রোল পাম্পের মেশিন দেখাচ্ছে গাড়িতে তেল পোরা হয়েছে প্রায় ৫২ লিটার! শুনতে অবাক লাগলেও সম্প্রতি এমনই এক অবিশ্বাস্য এবং চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে, যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ খোদ গাড়ি মালিকের। পেট্রোল পাম্পের এই চরম কারচুপি ও প্রতারণার কীর্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হতেই মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভ এবং প্রতিবাদের মুখে পড়ে শেষমেশ এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পাম্পের মেশিন যে সাধারণ মানুষকে এভাবে বোকা বানিয়ে দিনের পর দিন পকেট কাটছে, এই ঘটনা তারই এক জলজ্যান্ত প্রমাণ।

ঘটনাটি ঘটেছে এক গাড়ি মালিকের সচেতনতার কারণে। তিনি যখন তাঁর গাড়িটিতে তেল ভরতে পেট্রোল পাম্পে যান, তখন পাম্পের কর্মীরা তেল দেওয়া শেষ করার পর বিলের পরিমাপ দেখে তাঁর খটকা লাগে। মিটারে দেখা যায় ট্যাংকে ৫১.৭৮ লিটার পেট্রোল পোরা হয়েছে। কিন্তু গাড়িটির ম্যানুয়াল বুক অনুযায়ী, সেটির তেলের ট্যাংকের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা মাত্র ৪২ লিটার। কোনওভাবেই একটি ট্যাংকে তার ক্ষমতার চেয়ে ১০ লিটার বেশি তেল ঢোকানো সম্ভব নয়। এই অসম্ভব কাণ্ড দেখে গাড়ি মালিক সঙ্গে সঙ্গে পাম্প কর্মীদের চ্যালেঞ্জ করেন এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেন।

ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ চালক ও গাড়ি মালিকদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। অনেকেই কমেন্ট করে জানান যে, পেট্রোল পাম্পগুলোতে এই ধরণের রিডিং কারচুপি খুব সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মিটারে বেশি দেখালেও গাড়িতে আসলে কম তেল ঢোকে। শোরগোল এতটাই বাড়ে যে বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নজরে আসে। তড়িঘড়ি করে ওই নির্দিষ্ট পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পাম্পের ডিসপেন্সিং মেশিনটিতে কোনও  প্রযুক্তিগত জালিয়াতি বা চিপ বসানো ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞদের দল পাঠানো হচ্ছে। দোষ প্রমাণিত হলে পাম্পের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনাটি আরও একবার প্রমাণ করল যে, সচেতনতাই সাধারণ গ্রাহকদের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে পারে। আমরা অনেকেই পাম্পে তেল নেওয়ার সময় শুধু মিটারের শূন্য বা টাকার অঙ্কের দিকে তাকিয়ে থাকি, কিন্তু নিজের গাড়ির ট্যাংকের ধারণক্ষমতা কত আর কতখানি তেল ঢুকছে, তা খেয়াল করি না। যেকোনও  অঞ্চলের পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়ার সময় এখন থেকে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে এই ধরণের অদৃশ্য চুরির শিকার কাউকেই হতে না হয়।