আজকাল ওয়েবডেস্ক: গুরুগ্রামের কিছু অংশে গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম শীতলতম দিন অনুভূত হয়েছে। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে গিয়েছে। প্রায় শূন্য ছুঁইছুঁই। এর ফলে শহরটির তাপমাত্রা জনপ্রিয় শৈলশহরগুলির চেয়েও কমে গিয়েছে। গুরুগ্রামের ঘটনা তুলে ধরেছে যে এই মরসুমে উত্তর-পশ্চিম ভারতকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ কীভাবে গ্রাস করেছে।
গত প্রায় ৫০ বছরে গুরুগ্রামে এমন ঠান্ডা টের পাওয়া যায়নি। এর আগে তিন বার শূন্যে নেমেছিল এই শহরের তাপমাত্রা। ১৯৬৬ সালের ৫ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৯৭০ সালের ১১ জানুয়ারিতে শূন্য, ১৯৭৯ সালের ২২ জানুয়ারি ০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মৌসম ভবন অনুযায়ী, জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (এনসিআর) এবং পার্শ্ববর্তী সমভূমি এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণেই এই রেকর্ড তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঠান্ডা ও কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দিল্লিতেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সিমলায় তাপমাত্রা ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি, ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গুরুগ্রামে এত ঠান্ডা পড়ল কেন?
আবহাওয়াবিদরা এই বিরল শৈত্যপ্রবাহের কারণ হিসেবে হিমালয়ের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সাম্প্রতিক পশ্চিমা ঝঞ্ঝা এবং এর ফলে সৃষ্ট শক্তিশালী উত্তর-পশ্চিমী বাতাসের সম্মিলিত প্রভাবকে দায়ী করছেন। যা শীতল বাতাসকে সমভূমিতে ঠেলে নিয়ে আসছে। এই আবহাওয়া জানুয়ারির শুরুতে উঁচু এলাকাগুলিতে তুষারপাত ঘটিয়েছিল। যা পরে একটি শীতল বায়ুপ্রবাহকে দক্ষিণের দিকে টেনে আনে এবং গুরুগ্রাম ও তার আশেপাশের অঞ্চলের আকাশ পরিষ্কার করে দেয়।

এছাড়াও, রাতে পরিষ্কার আকাশ ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ বিকিরণ করে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে, যার ফলে সূর্যাস্তের পর তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়। পাহাড়ি স্টেশনগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। কিছু পাহাড়ি এলাকা মেঘে ঢাকা থাকে, যা তাপ আটকে রাখে এবং উচ্চতর স্থানে থাকা সত্ত্বেও তাপমাত্রা সমভূমির মতো এতটা নীচে নামতে দেয় না। শীতকালের স্বাভাবিক আবহাওয়ার এই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির কারণেই এই সপ্তাহে গুরুগ্রামের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অনেক হিমালয়ের শহরের চেয়ে কম ছিল।
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন না এলে আগামী দিনগুলিতেও এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে। ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা কমে যাবে।
তীব্র শীতে ঠকঠক করে কাঁপছে গুরুগ্রাম। শহরের আশেপাশে গাড়ি, ফসল এবং ঘাসজমিতে বরফ জমেছে। বাসিন্দারা পুরু গরম জামাকাপড় পরতে বাধ্য হচ্ছেন। রাস্তা পিচ্ছিল হওয়ায় গাড়ির গতিবেগ কম। ভোরে দৃশ্যমানতা শূন্যে নেমে আসছে প্রায়শই।
স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বয়স্ক ও শিশুদের দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ দীর্ঘস্থায়ী শৈত্যপ্রবাহের সময় ফ্রস্টবাইট, ফ্লু এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
