আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ। এই পরিস্থিতিতেই ভারত সরকারের ‘ত্রাণ বিমান’। বিগত কয়েকদিন ধরে বাতিল ছিল শয়ে শয়ে বিমান। বিদেশের মাটিতে আটকে পড়া প্রায় ২০০ জন ভারতীয় নাগরিককে নিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে আহমেদাবাদে পা রাখল ইন্ডিগোর একটি বিশেষ বিমান। ঘরের ছেলে ঘরে ফেরায় সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দরে তখন কান্নার রোল, স্বস্তির নিঃশ্বাস আর প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরার আবেগঘন মুহূর্ত।
যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম এশিয়ায় আটকে থাকা ভারতীয়দের উদ্ধারে কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্র। একাধিক বিমান সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে চলছে এই বিশেষ অভিযান।
মঙ্গলবার আহমেদাবাদ বিমানবন্দরে নামার পর এক যাত্রী আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, “দেশের মাটিতে পা দিয়ে মনে হচ্ছে প্রাণ ফিরে পেলাম। সরকার এই ব্যবস্থা না করলে হয়তো ফিরতেই পারতাম না।” শুধু ইন্ডিগো নয়, এয়ার ইন্ডিয়া এবং এমিরেটস-এর মতো সংস্থাও ইতিমধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে ভারতীয়দের ফেরানোর কাজ শুরু করেছে।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা প্রত্যেকেই ভারত সরকারের তৎপরতা এবং দূতাবাসের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন। জনৈক এক বৃদ্ধ জানান, তাঁরা বিমানবন্দরে আটকে পড়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিশেষ উদ্যোগে এই ফেরা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এক মহিলা যাত্রীর কথায়, “ভীষণ আতঙ্কে ছিলাম। মোদিজি আমাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করেছেন। আমি আমার দেশকে নিয়ে গর্বিত।”
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম এশিয়া। ইরান পালটা আক্রমণ শুরু করলে গোটা অঞ্চলে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়।
এহেন চরম অস্থিরতার মধ্যেই মঙ্গলবার দুবাই থেকে যাত্রী ও বিমানকর্মীদের নিয়ে দিল্লিতে নামে এয়ার ইন্ডিয়ার প্রথম একটি বিমান। ২ মার্চ সন্ধ্যা থেকে দুবাইয়ের দু’টি বিমানবন্দরে সীমিত পরিসরে উড়ান শুরু হলেও পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট উদ্বেগের।
