মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ–এ এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ইরান আলোচনার টেবিলে সরাসরি জানিয়েছে যে তাদের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে—যা চাইলে খুব দ্রুত অস্ত্র-মানের পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব।
2
6
উইটকফের কথায়, ইরানি প্রতিনিধিরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তাদের নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪৬০ কিলোগ্রাম ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ইউরেনিয়ামকে সাধারণত ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করতে হয়। তাঁর দাবি, ৬০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছতে সময় লাগতে পারে মাত্র এক সপ্তাহ থেকে দশ দিন। এমনকি ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থেকেও তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে অস্ত্র-মানের পর্যায়ে পৌঁছনো সম্ভব। সব মিলিয়ে ইরানের মোট প্রায় ১০,০০০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন, যার মধ্যে ১,০০০ কেজি ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ এবং বাকিটা ৩.৬৭ শতাংশ মাত্রায়।
3
6
সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন ফক্স নিউজের সঞ্চালক সন হ্যানিটি। উইটকফ বলেন, ইরান নিজেদের “অবিচ্ছেদ্য অধিকার” হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের দাবি তোলে। আলোচনায় ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনের-ও ছিলেন। মার্কিন পক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রেরও অধিকার রয়েছে ইরানের এই কর্মসূচি থামানোর। ইরান যখন স্পষ্ট করে যে সমৃদ্ধকরণই হবে আলোচনার সূচনা-বিন্দু, তখনই মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে বোঝা যায় সমঝোতার পথ অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে।
4
6
উইটকফ আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রস্তাব দিয়েছিল—ইরান দশ বছর কোনও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে না, পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির খরচ বহন করবে। কিন্তু তেহরান সেই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দেয়। এতে মার্কিন প্রতিনিধিদের ধারণা হয়, ইরান সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ছাড়তে প্রস্তুত নয়।
5
6
আলোচনায় উঠে আসে ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন সামরিক অভিযান “Operation Midnight Hammer”-এর প্রসঙ্গও, যার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল। তবু ইরান আলোচনায় কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে বলে মন্তব্য করেন উইটকফ। তাঁর কথায়, ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা, পশ্চিম এশিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন থামানো, Strait of Hormuz অঞ্চলে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সর্বোপরি ইরানকে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ থেকে বিরত রাখা।
6
6
তিন দফা বৈঠকের পরও কোনও ইতিবাচক অগ্রগতি না হওয়ায় আলোচনা কার্যত ভেস্তে যায় বলে জানান উইটকফ। তাঁর বক্তব্য সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থেকে দ্রুত ৯০ শতাংশে পৌঁছনোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কেবল সামরিক প্রশ্ন নয়, বরং তা কূটনৈতিক অচলাবস্থারও স্পষ্ট ইঙ্গিত। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অবিশ্বাসের দূরত্ব যে এখনও কমেনি, এই সাক্ষাৎকার তারই আরেকটি প্রমাণ।