আজকাল ওয়েবডেস্ক: সত্যি কথা বললে, ঠিক ঠিক বলে সালিশি করা টিকটিকির ডিম কোথা থেকে আসে, সে নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন। এরা এত তাড়াতাড়ি দেওয়ালে বা সিলিংয়ে উঠে চলে যায়, যে আসলে ওরা ঘরের কোথায় থাকে সেও, জানা যায় না সহজে। ফলে ডিম পাড়ছে কোথায়, সেটা খুঁজে বের করাটা মুশকিলের হয়ে যায়। তরতর করে যারা লাইটের পিছনে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে, তাদের দেখে জানতে ইচ্ছে করে, লাইটের পিছনে কেন যায় তারা? আসলে এই খুদে সরীসৃপেরা পছন্দ করে উষ্ণতা। তাই দেয়ালের টিউব বা এলইডি লাইটের পিছনে যায়। পাশাপাশি, আলোর কাছে কীট পতঙ্গেরা ঘুরতে আসে ঘন ঘন। টিকটিকিদের পেটপুজোও হয়ে যায় উষ্ণতা খুঁজতে গিয়ে। 

পাখিদের মতো খোলা জায়গায় তারা ডিম পাড়ে না। নিরিবিলি জায়গা দেখে, যেখানে মাকড়শা বা অন্যান্য কোনও প্রাণী এসে টিকটিকির ডিমের কোনও ক্ষতি করতে পারবে না, সেখানে গিয়ে ডিম পাড়ে। একটু শুকনো, নিরিবিলি আর উষ্ণ জায়গায় তারা ডিম পাড়ে। যেমন, ক্যাবিনেট বা আলমারির পিছনে তারা ডিম পাড়ে। কখনও দেয়ালের ফাটলের মধ্যেও ডিম পাড়ে। আবার টেবিল কিংবা বিভিন্ন বইয়ের তাকের নীচে ডিম পাড়ে। দেয়ালে টাঙানো ছবির ফ্রেমের পিছনে বা ছোট গর্ত অথবা দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কোনও বাক্সর ভিতরে কিংবা দেয়াল ও সিলিংয়ের জয়েন্টেও আমরা টিকটিকির ডিম দেখতে পাই। 

এই জায়গাগুলি মূলত নিরিবিলি থাকে এবং খুব কমই পরিষ্কার করার জন্য হাত পড়ে। নিরাপত্তার দিক দিয়ে এই জায়গাগুলি ভাল। টিকটিকিরা মূলত একসঙ্গে দুটো করে ডিম পাড়ে। ফ্যাকাশে সাদা রঙের ডিম। অনেকটা চূণী গুলির মতো দেখতে হয় ডিমগুলিকে। ৭-১৫ সেন্টিমিটারের ছোট ছোট টিকটিকিই ঘরের দেয়ালে কিংবা সিলিংয়ে মূলত দেখা যায়। একটু খয়েরি বা ছাই রঙের দেখতে হয় তাদের। ফলে, তারা দেয়ালের আলো আঁধারিতে মিলে মিশে যেতে পারে। পায়ে মোটা প্যাড থাকে এদের, যাতে মসৃণ টাইলস বা মার্বেলের দেয়ালে তারা সহজে চলাফেরা করতে পারে। 

নিশাচর এই সরীসৃপ, আলোর কাছাকাছি থাকে, এবং কীটপতঙ্গ খেয়ে বাঁচে। দেয়ালের ফাটল দেখে বা অপরিষ্কার তাক, কিংবা বাক্সে ডিম পাড়ে। বছরে একাধিকবার তারা ডিম পাড়ে। অনেক সময়ে, অনেকজন মহিলা-টিকটিকি একই জায়গা বেছে নেয় ডিম পাড়ার জন্য। এই ডিমগুলো পাখির ডিমের মতো অত ভঙ্গুর হয় না। বরং সহজে ভাঙা যায় না, এমন শক্ত হয়ে থাকে। ফলে তারা নিরাপদে সেই ডিমের মধ্যে বেড়ে ওঠে। 

প্রায় ৩০-৬০ দিন তারা উষ্ণ আবহাওয়ায় ডিম বেড়ে ওঠে। তারপর সেই ডিম ফুটে, বেরিয়ে আসে বাইরে। যদি বাইরের জগৎ শীতল হয়, তখন এই সময় আরও বেড়ে যেতে পারে। ডিম থেকে ১ সেন্টিমিটার উচ্চতা নিয়ে তারা জন্ম নেয়। কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি তারা লম্বা হয়ে যায়, এবং বাবা মাকে ছাড়া নিজের সক্ষমতায় বাঁচতে শেখে। পাখিদের মতো মুক্ত আকাশের তলায়, নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে এই খুদে সরীসৃপেরা ডিম পাড়ে না। পাড়ে ঘরের মধ্যে। মানুষের চোখের সামনে। তবুও অনেক মানুষের চোখ এড়িয়ে যায় অনায়াসে। আমাদের রোজনামচায় যেদিকে চোখ পড়ে না, সেখানেই তারা পেতে ফেলে সুখের সংসার।