আজকাল ওয়েবডেস্ক: অবশেষে মেয়ের বিবাহবিচ্ছেদ হল আদালতে। সেই প্রসঙ্গে আনন্দে মাতলেন মেয়ের বাবা। আদালতের বাইরে রীতিমত ব্যান্ড বাজিয়ে আনন্দে মাতলেন তিনি, সকলকে মিষ্টিও খাওয়ালেন।

এসেছিলেন পরিবারের আরও অনেক সদস্যরাও। সকলের মুখেই আনন্দের ছাপ স্পষ্ট। নেটদুনিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও এখন ভাইরাল। সমাজ যেখানে বিবাহবিচ্ছেদকে আজও অন্য চোখে দেখে, সেখানে একজন বাবার এভাবে নিজের মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর মতো ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন ফেলেছে।

জানা গিয়েছে, ওই মহিলার নাম প্রণীতা। বহু বছর ধরে বৈবাহিক সমস্যায় অবশেষে ইতি টানলেন তিনি। আর আদালতের বাইরে তাঁর নিজের বাবা সহ পরিবারের আরও বাকি সদস্যরা আনন্দে নাচলেন।

বাজনা বাজিয়ে আদালতের সকলকে মিষ্টিমুখ করালেন তাঁরা। এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরেছে। নেটিজেনরা বলছেন, যদি বৈবাহিক জীবন ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে তাহলে সেই জীবনে ইতি টানাই ভাল। সমাজ যদি সেই বিচ্ছেদকে মেনে নাও নেয়, তাহলেও পরিবার তাঁদের পাশে রয়েছে।

ভিডিওতে ওই মহিলার অনেক আত্মীয়কে দেখা গিয়েছে। তাঁরা বেশিরভাগই কালো পোশাক পরে এসেছিলেন। সেখানে প্রণীতার ছবি ছিল। সঙ্গে লেখা ছিল ‘আমি আমার সন্তানকে ভালবাসি। সে আমার হৃদয়ে বাস করে।’

অন্যদিকে প্রণীতা পরে ছিলেন একটা কালো পোশাক। তাতে লেখা ছিল, ‘আমার পরিবারই আমার সব।’ নিজের বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রণীতা জানান, তিনি সবরকমভাবে চেষ্টা করেছিলেন নিজের বিয়ে টিকিয়ে রাখার জন্য।

২০২১ থেকে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি তখন। জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে মেয়ের পাশে ছিল তাঁর পরিবার, বিশেষ করে তাঁর বাবা। তাঁর কথায়, ‘এই কঠিন পরিস্থিতিতে যেভাবে আমার পরিবার আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল, আমি সত্যিই খুব কৃতজ্ঞ। সমাজের চোখরাঙানিকে তোয়াক্কা না করে আমার বাবা আমার পাশে ছিলেন।’

মহিলার বাবা ডাঃ জ্ঞানেন্দ্র শর্মার কথায়, ‘মেয়ের জন্মের সময়ে ড্রাম বাজিয়েছিলাম। আজ আবার ড্রাম বাজালাম কারণ আমার মেয়ের নবজন্ম হল।’ জানা গিয়েছে, প্রণীতা তাঁর পরিবারে একমাত্র মেয়ে।

২০১৮ সালে বিয়ে করেন তিনি। তারপর থেকেই শ্বশুর বাড়ির দিক থেকে চাপ আসতে থাকে। নানাভাবে হেনস্থার মুখোমুখি হতে হয়। অবশেষে তিনি ডিভোর্স ফাইল করেন।

দীর্ঘ আইনি জটের পর কোর্ট তাঁর পক্ষেই রায় দিল। তবে এই সেলিব্রেশন এখন নজর কেড়ে নিয়েছে নেটিজেনদের। আবার অনেকে বিতর্কিত মন্তব্যও করছেন। একজন ব্যবহারকারীর মন্তব্য, ‘১০ কোটি খোরপোশ পাওয়ার পরে এভাবেই উৎযাপন করা উচিত।’

অন্য আর একজনের কথায়, ‘এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিল, বিবাহবিচ্ছেদের পরে একজন মহিলার জীবন নষ্ট হয়ে যায়, এমনটা একেবারেই নয়।’ অন্য একজনের মন্তব্য, ‘দু’পক্ষের সম্মতিতে বিচ্ছেদ হলে এক বছরের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যেত।

কিন্তু না, শ্বশুরবাড়ির লোকদের বিরক্ত না করলে হয়!’ অন্য একজনের কথায়, ‘বিচ্ছেদও এখন উদযাপন করার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবেতেই পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ঢুকে গিয়েছে। নিজেদের সমস্ত সংস্কৃতি আমরা ভুলে যাচ্ছি।’