আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে নানা জায়গায় একাধিক ব্যক্তিকে অপরের উপর চোটপাট করতে দেখা গিয়েছে। কেউ কেউ মাঝ রাস্তায় নিজের পরিচয় জাহির করে অন্যকে আঘাত করেছেন, কেউ আবার বাবার পরিচয়ে। তবে এবার পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে পড়ুয়াদের উপর মারধোরের অভিযোগ উঠল আইএএস অফিসারের। ভিডিও ভাইরাল হতেই দিলেন সাফাইও। ঘটনায় তাজ্জব নেটপাড়া।

ঠিক কী ঘটেছে? ইতিমধ্যে ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ভিডিওতে দেখতে পাওয়া ওই অফিসার আদতে জেলাশাসক। ঘটনাস্থল মধ্যপ্রদেশের ভিন্ড জেলার দীনদয়াল ডাংরাউইলিয়া মহাবিদ্যালয়ের। ওই জেলারই জেলাশাসক পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে পড়ুয়াদের মারধোর করেছেন বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, যে ঘটনার ভিডিও এখন ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, তা ১ এপ্রিলের।

আরও পড়ুন: যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ফুঁসে উঠল জনতা! গণপিটুনি দিয়ে হত্যা আসামের যুবককে ...

জানা গিয়েছে, ওই সময় ওই কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের গণিত পরীক্ষা চলছিল। সেখানেই আচমকা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে যান জেলাশাসক সঞ্জীব শ্রীবাস্তব। দুটি পৃথক ভিডিওতে শ্রীবাস্তবকে দেখা গিয়েছে। যদিও ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন। তবে, সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ওই দুটি ভিডিওর একটি বিএসসি পরীক্ষার হল। যেখানে দেখা গিয়েছে শ্রীবাস্তব একজন পরীক্ষার্থীর সামনে দাঁড়িয়ে। হাতে কাগজ। কিছু কথা বলার পর ওই পরীক্ষার্থীকে তাঁর আসন থেকে জোর করে তুলে আনা হচ্ছে। অপর এক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে জেলা শাসকের হাতে কাগজ। সামনে এক যুবক। তাঁকে দু-চার কথা জিজ্ঞাসাবাদের পর জেলাশাসক ওই প্রোহিত নামের যুবককে সপাটে থাপ্পড় মারেন এবং প্রশ্ন করেন, তার পরীক্ষার খাতা কোথায়? 

অন্যদিকে ইতিমধ্যে রোহিত রাঠোর নামের ওই যুবক জানিয়েছেন, থাপ্পড়ের অভিঘাতে তাঁর কানে গুরুতর চোট পেয়েছে। যেহেতু ওই ব্যক্তি একজন আইএএস অফিসার, তাই তিনি কিছু বলতেই পারেননি।  কিন্তু একজন উচ্চপদস্থ অফিসার, জেলাশাসক কেনই বা আচমকা পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে মারধোর করেছেন? 

সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে নিজের কৃতকর্মের সাফাই দিয়ে জেলাশাসক জানিয়েছেন, তিনি ওই কলেজে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ পেয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু ছাত্র প্রশ্নপত্র বাইরে পাচার করেছে, সমাধান করিয়েছে এবং সমাধান করা প্রশ্নপত্রগুলি নিয়ে ফের পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে নিজেদের খাতায় উত্তর লিখছে, এই ধরনের অভিযোগ ছিল তাঁর কাছে। জানিয়েছেন, "আমি সেখানে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতির চক্রের তদন্ত করতে গিয়েছিলাম। আমি বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি লিখে সুপারিশ করেছি যে ভবিষ্যতে কলেজটিকে পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।‘ 

সূত্রের খবর, যে কলেজকে কেন্দ্র করে গোটা ঘটনাটি আবর্তিত হয়েছে, সেটি হেমন্ত কাটারের শ্বশুর নারায়ণ ডাংরাউলিয়ার, যিনি মধ্যপ্রদেশের বিরোধী দলের উপনেতা। একই সঙ্গে উল্লেখ্য, শ্রীবাস্তবকে নিয়ে মধ্যপ্রদেশে চর্চা এই প্রথম, এমনটা নয়। এর আগেও বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে থেকেছেন তিনি। কয়েকদিন আগে, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গোয়ালিয়র বেঞ্চ, গণপূর্ত বিভাগ সম্পর্কিত একটি মামলার শুনানিকালে, শ্রীবাস্তবের আচরণ সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেছিল, মুখ্যসচিবকে এবার সিদ্ধান্ত নিতে হবেই, শ্রীবাস্তবের মতো ঊর্দ্ধতন কর্তারা আর কাজে বহাল থাকবেন কি না সেই বিষয়ে। বর্তমানে ভিন্দে কর্মরত 
এক মহিলা আধিকারিক শ্রীবাস্তব এবং এসডিএম-এর বিরুদ্ধে মানসিক হয়রানির অভিযোগও তুলেছিলেন। ঠিক তার পরেই, পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে সরাসরি পড়ুয়াদের মারধোরের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।