আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্যের রূপকার, অভিনেতা বিজয়ের দল 'তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম' (টিভিকে) সরকার গঠন নিয়ে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মুখে, আরও একজন বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। জানা গিয়েছে, টিভিকে- টিটিভি দিনাকরণের নেতৃত্বাধীন 'আম্মা মক্কাল মুন্নেত্র কাজাগাম' (এএমএমকে)-এর একমাত্র জয়ী প্রার্থী, এস কামারাজের সমর্থন চেয়েছে।
রাজ্যপাল আরভি আরলেকার জানিয়েছেন, টিভিকে একক বৃহত্তম দল হলেও তাঁকে প্রয়োজনীয় ১১৮ জন জয়ী প্রার্থীর সাক্ষর নিয়ে সরকার গঠনের দাবি পেশ করতে হবে। ফলে তামিল সরকার গঠনে এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, টিভিকে আত্মবিশ্বাসী যে আগামীকালের মধ্যেই তারা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে।
টিভিকে-র কেন সমর্থনের প্রয়োজন?
তামিলনাড়ু সরকারের ওপর দ্রাবিড় রাজনীতির দুই মহারথী ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র ৬২ বছরের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে টিভিকে ইতিহাস তৈরি করেছে। ২৩৪টি আসনের মধ্যে তারা জয়লাভ করেছে ১০৮টি আসনে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার 'জাদুসংখ্যা' বা ১১৮। অর্থাৎ সরকার গঠন করতে হলে বিজয়ের আরও ১০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন।
কংগ্রেস ইতিমধ্যেই টিভিকে-কে তাদের সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছে, যার ফলে বিজয়ের পক্ষে আরও ৫ জন বিধায়কের সমর্থন যোগ হয়েছে। পাশাপাশি, মাত্র দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি ডিএমকে-এর সহযোগী দলগুলো (-যেমন ভিসিকে) এবং বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে।
বিজয়ের অনুরোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ভিসিকে এবং বামপন্থী দলগুলো আগামীকাল একটি বৈঠক ডেকেছে। ভিসিকে-র প্রধান থোল থিরুমাবালাভান সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা হুট করে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। ভিসিকে-র উচ্চপর্যায়ের কমিটি শুক্রবার বৈঠকে বসবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। বামপন্থী দলগুলোও তাদের নিজ নিজ কার্যালয়ে বৈঠকে বসবে।"
অনিশ্চয়তার মাঝে ডিএমকে-র পদক্ষেপ
বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এবং ডিএমকে-র প্রধান এমকে স্ট্যালিন তাঁর ছোট সহযোগী দলগুলোকে এই মর্মে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে যে, তারা তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে বিজয়কে সমর্থন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবজনিত পরিস্থিতিকে একটি 'জটিল সংকট' হিসেবে অভিহিত করে ডিএমকে জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হল আরেকটি নির্বাচন এড়ানো এবং একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন করা, যাতে কোনও "সাম্প্রদায়িক শক্তির" মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ না থাকে। দলটি তাদের প্রধান এমকে স্ট্যালিনকে জরুরি প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ ক্ষমতাও অর্পণ করেছে।
ডিএমকে বিধায়কদের আপাতত চেন্নাইতেই থাকার করার নির্দেশ দিয়েছে। এআইএডিএমকে তাদের নবনির্বাচিত এক ডজন বিধায়ককে পুদুচেরির একটি রিসোর্টে সরিয়ে নিয়েছে। তাদের আশঙ্কায় যে, দলের নির্বাচিত বিধায়কদের একাংশ হয়তো শেষমেশ টিভিকে-কে সমর্থন দিয়ে বসতে পারেন।
অচলাবস্থা
সরকার গঠনের দাবি জানাতে গতকাল সন্ধ্যায় রাজ্যপাল আরলেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিজয়। তবে সরকার গঠনের জন্য জোট শরিকদের কাছ থেকে তাঁর প্রয়োজনীয় সমর্থন রয়েছে, এ বিষয়ে রাজ্যপালকে তিনি আশ্বস্ত করতে পারেননি।
বৃহস্পতিবার সকালে বিজয় পুনরায় সাক্ষাৎ করেন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, রাজ্যপাল বিজয়কে একাধিক প্রশ্ন করেন, যার মধ্যে ছিল- সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই তিনি কীভাবে প্রশাসন পরিচালনা করবেন এবং অন্য কোন কোন দল টিভিকে-কে সমর্থন দিতে সম্মত হতে পারে। এছাড়া, ভবিষ্যতে তাঁর দল যেসব দলের সমর্থন পেতে পারে বলে তিনি দাবি করেছেন, সে বিষয়েও রাজ্যপাল বিজয়ের কাছে নিশ্চিয়তা চেয়েছেন।
জানা গিয়েছে, রাজ্যপালের সঙ্গে আলোচনার সময় বিজয় বিধানসভায় 'ফ্লোর টেস্ট' বা আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে নিজের প্রস্তুতির কথা জানান। তবে রাজ্যপাল পাল্টা জানিয়ে দেন যে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের আগেই বিজয়কে বিধানসভায় নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।















