আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেরলে সদ্য ক্ষমতায় ফিরেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। ফলে, তিরুবনন্তপুরমে কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদর দপ্তরে নির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক ছিল বৃহস্পতিবার। সেখানেই ঘটল অদ্ভূত ঘটনা। সেই ভিডিও ভাইরাল। শুরু হয়েছে বিতর্ক। ভাইরাল ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেস বিধায়ক দলের বৈঠকে দলের প্রবীণ নেতা চেরিয়ান ফিলিপ নবনির্বাচিত কোলামের বিধায়ক বিন্দু কৃষ্ণাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছেন। বিন্দু কৃষ্ণা অবশ্য ফিলিপের এহেন আচরণে স্পষ্টতই বিরক্ত, বার বার নিজের অনিচ্ছা কথা জানাচ্ছেন তিনি, তাঁর চোখে-মুখে অস্বস্তির ছাপ।
দলীয় নেতা ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার জেরে কংগ্রেস ও চেরিয়ান ফিলিপের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়, ৪৮ বছর বয়সী বিন্দু কৃষ্ণা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে প্রথমে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অভিবাদন জানান এবং এরপর দলীয় দপ্তরের প্রবেশপথের দিকে এগিয়ে যান। সাদা ও হলুদ রঙের শাড়ি পরা বিন্দু কৃষ্ণা প্রথমে এক দলীয় কর্মীর সঙ্গে হাত মেলান, এরপর ৭১ বছর বয়সী চেরিয়ান ফিলিপ তাঁর দিকে এগিয়ে আসেন।
দেখে মনে হচ্ছিল, বিন্দু কৃষ্ণা হাত মেলানোর উদ্দেশ্যেই নিজের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ফিলিপ হাত না মিলিয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করার জন্য এগিয়ে যান। ভিডিও-তে দেখা যায়, তিনি বিন্দু কৃষ্ণার প্রসারিত হাতটি নীচে নামিয়ে দিয়ে নিজের একটি হাত তাঁর গলার চারপাশে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছেন।
বিন্দু কৃষ্ণাকে দৃশ্যত অত্যন্ত অস্বস্তি বোধ করছিলেন। তিনি ফিলিপের এই চেষ্টায় বাধা দেন এবং তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ার পরেও ফিলিপ তাঁকে দ্বিতীয়বার আলিঙ্গন করার চেষ্টা করনে। এরপর বিন্দু কৃষ্ণা হাত জোড় করে নমস্কার করে সেখান থেকে এগিয়ে যান।
ভিডিও-তে আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও দলীয় কর্মী এই পুরো ঘটনাটি দেখে হাসছিলেন। যা নিয়েও অনলাইনে সমালোচনা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকেই ফিলিপের বিরুদ্ধে বিন্দু কৃষ্ণার স্পষ্ট অস্বস্তির লক্ষণগুলো উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলেছেন। একাধিক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক পদমর্যাদা বা প্রকাশ্য স্থান নির্বিশেষে- কেউ একবার নিজের অনিচ্ছা বা ব্যক্তিগত সীমার কথা প্রকাশ করলেই তা অবিলম্বে সম্মান করা উচিত।
কেউ কেউ ফিলিপের এই আচরণকে 'অনুপযুক্ত' বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং ওই প্রবীণ নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "উনি একজন বিধায়ক? হায় ঈশ্বর! আর এই 'শকুন' তাঁর সঙ্গে ইভ-টিজিং করার এবং তাঁকে জোর করে আলিঙ্গন ও চুমু খাওয়ার চেষ্টা করছে!"
আরেকজন লিখেছেন, "উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন, যখন কোনও নারী স্পষ্টভাবে পিছিয়ে যান এবং কাউকে সরিয়ে দেন, তখন তাঁর সেই ব্যক্তিগত সীমাকে অবিলম্বে সম্মান জানানো উচিত। প্রকাশ্য জীবন বা রাজনৈতিক পদমর্যাদা, কোনোটাই অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শের অজুহাত হতে পারে না।"
আরেকজন ব্যবহারকারী এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে ফিলিপের আচরণকে 'নির্লজ্জ' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি পুলিশি পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত, চেরিয়ান ফিলিপ কিংবা বিন্দু কৃষ্ণা- উভয়ের কেউই এই ঘটনা সম্পর্কে কোনও বিস্তারিত বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি।















