আজকাল ওয়েবডেস্ক: চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো  এআই এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। প্রশ্ন করলেই মুহূর্তের মধ্যে উত্তর দিচ্ছে সে। আর তার বলার ধরনে উত্তর সঠিক কি না, তা নিয়ে মনে কোনও সন্দেহও জাগে না। কিন্তু এই ‘অমোঘ’ বিশ্বাসের আড়ালেই দানা বাঁধছে এক বড় বিপদ। প্রযুক্তিবিদ্যার ভাষায় যার নাম ‘হ্যালুসিনেশন’।

সোজা কথায় বলতে গেলে, এআই হল সেই বন্ধুর মতো যে সব বিষয়েই কথা বলে, কিন্তু সব সময় ঠিক বলে না। সে যে ইচ্ছে করে মিথ্যে বলছে তা নয়, আসলে ‘জানি না’ শব্দটা তার অভিধানে নেই। ফলে সে যা জানে না, তা-ও অত্যন্ত নিপুণভাবে বানিয়ে গুছিয়ে বলে দেয়।

সম্প্রতি ভারতের আদালতগুলিতেও এই নিয়ে চরম বিভ্রান্তি শুরু হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, আইনজীবীরা মামলায় সওয়াল করার সময় এমন সব পুরনো রায়ের কথা বলছেন, যার বাস্তবে কোনও অস্তিত্বই নেই। সম্প্রতি ‘মার্সি বনাম ম্যানকাইন্ড’ নামে একটি মামলার কথা সুপ্রিম কোর্টে বলা হয়েছিল। পরে জানা যায়, এমন কোনও মামলা ভারতের বিচারব্যবস্থায় কখনও হয়ইনি। আসলে আইনজীবীর যুক্তির সঙ্গে মানানসই একটি নাম এআই নিজের মনে বানিয়ে নিয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিচারপতিদের মতে, আদালতে এআই-এর তৈরি করা ভুয়ো তথ্য পেশ করা কেবল ভুল নয়, বরং চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। এর জেরে বার কাউন্সিলকে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যাটা এআই-এর নয়, সমস্যাটা আমাদের। আমরা অনেক সময় সুন্দর করে সাজানো লেখা দেখলেই সেটাকে ধ্রুব সত্য বলে ধরে নিই। কিন্তু মনে রাখা দরকার, চ্যাটজিপিটি বা জেমিনি কোনও তথ্যের ভাণ্ডার নয়। এরা কেবল শব্দ সাজিয়ে বাক্য তৈরি করতে পারে। এরা তথ্যের সত্যতার চেয়ে ভাষা কতটা সুন্দর হল, তার ওপর বেশি জোর দেয়। অনেকটা ‘অটো-কমপ্লিটের’ মত।

এই ভুলগুলো ধরাও খুব কঠিন। কারণ, এআই-এর বানানো ভুয়ো মামলার নাম বা তারিখগুলো একেবারে আসল আইনি কাগজের মতোই দেখতে লাগে। আইনজীবীদের সতর্ক করে জানানো হয়েছে, এআই-এর দেওয়া তথ্যের দায়ভার শেষ পর্যন্ত তাঁদেরই নিতে হবে। যাচাই না করে কিছু পেশ করলে আইনি শাস্তিও হতে পারে।

তার মানে কি এআই একবারে অকেজো? তা নয়। কোনও লেখা গুছিয়ে দেওয়া বা বড় কোনও নথির সারমর্ম তৈরির কাজে এআই দারুণ কার্যকর। কিন্তু বিপদ তখনই ঘটে যখন আমরা তথ্য যাচাই করা বন্ধ করে দিই।

তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্ত তথ্য যাচাই করে তবেই এআই এর কাজ বা লেখা পেশ করা উচিৎ, যাতে তা নির্ভুল হয়৷