আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় সোমবার দেখা করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের সঙ্গে।

অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা বিজয় সম্প্রতি শপথ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। যা তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের ডিএমকে-এআইএডিএমকে দ্বৈরথে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চেন্নাইয়ের আলওয়ারপেট এলাকায় স্ট্যালিনের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে যান বিজয়। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান এম কে স্ট্যালিন এবং উদয়নিধি স্ট্যালিন। দুই নেতাকে করমর্দন ও আলিঙ্গন করতে দেখা যায়।

মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কালো স্যুট পরিহিত বিজয় হাতজোড় করে স্ট্যালিনকে অভিবাদন জানান। পাল্টা একইভাবে শুভেচ্ছা জানান ডিএমকে প্রধানও।

দুই নেতার বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নির্বাচনে জয়ের পর এই প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন বিজয় ও স্ট্যালিন।

কংগ্রেস, সিপিআই সহ একাধিক ছোট দলের সমর্থনে সরকার গঠন করেছেন বিজয়। ৪ মে ফল ঘোষণার পর তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে উঠেছিল। এমনও জল্পনা চলছিল যে সরকার গঠনের জন্য ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-ও হাত মেলাতে পারে বিজয়ের সঙ্গে।

এর আগেই বিজয়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন স্ট্যালিন। তবে নতুন সরকারকে একাধিক পরামর্শও দেন তিনি। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির জন্য আগের সরকারের উপর দায় চাপানোর বদলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

এক্স হ্যান্ডেলে স্ট্যালিন লেখেন, ‘শপথ নেওয়ার পরই যে ঘোষণা গুলি আপনি করেছেন, আমি সেগুলোকে স্বাগত জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখনই বলতে শুরু করবেন না যে সরকারের কাছে টাকা নেই। টাকা রয়েছে। সেই অর্থ খরচ করার প্রয়োজন সদিচ্ছা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা।’

ডিএমকে সরকারের আর্থিক পরিচালনাও এদিন তুলে ধরেন স্ট্যালিন। তাঁর দাবি, করোনা, বন্যা এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ‘বঞ্চনা’ সত্ত্বেও গত পাঁচ বছরে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছিল।

বিজয়ের উদ্দেশ্যে স্ট্যালিন বলেন, ‘আপনি আপনার প্রথম ভাষণেই বলেছেন, আগের সরকার ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ রেখে গিয়েছে এবং কোষাগার ফাঁকা করে দিয়েছে। কিন্তু তামিলনাড়ুর ঋণের পরিমাণ অনুমোদিত সীমার মধ্যেই রয়েছে। ফেব্রুয়ারির বাজেটেই আমরা রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি স্পষ্ট করেছিলাম। আপনি কি তা জানতেন না?’