শান্তি আর সৌন্দর্যের মিশেল ভুটানের এই নিভৃত উপত্যকা, এসেছিলেন জহরলাল নেহরু, কখন কীভাবে যাবেন দেখে নিন?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১১ মে ২০২৬ ১৭ : ২১
শেয়ার করুন
1
10
পারো-পুনাখা-থিম্পু— ভুটান বললেই বাঙালি পর্যটকের মনে প্রথম এই নামগুলোই আসে। কিন্তু এই পরিচিত ত্রিভুজ ছাড়িয়ে দেশের পশ্চিম প্রান্তে রয়ে গেছে এক নিভৃত উপত্যকা— হা ভ্যালি।
2
10
তিব্বত সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলটি স্থানীয় ভাষায় ‘লুকোনো ধানের উপত্যকা’ নামেই পরিচিত। হা ভ্যালি ভুটানের স্বল্প পরিচিত পর্যটন, যা এখনও ব্যবসার ক্ষেত্র হয়ে ওঠেনি৷
3
10
পারো বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে মাত্র আড়াই-তিন ঘণ্টার পথ। কিন্তু এই যাত্রার মূল আকর্ষণ চেলে লা পাস— ভুটানের সর্বোচ্চ মোটরযানযোগ্য গিরিপথ, উচ্চতা ৩,৯৮৮ মিটার।
4
10
এখান থেকে স্পষ্ট দেখা যায় ভুটানের পবিত্র শৃঙ্গ মাউন্ট জোমোলহারি এবং জিচু দ্রাকে। পাইন আর রডোডেনড্রনের ঘন বন, আর মানুষের প্রার্থনায় হাজারও পতাকা হাওয়ায় উড়ছে, পুরো যাত্রাপথ ছবির মতো সুন্দর৷
5
10
প্রায় ২,৭০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত হা ভ্যালি একসময় ছিল সিকিম এবং তিব্বতের চুম্বি উপত্যকার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ। ১৯৫৮ সালে স্বয়ং জওহরলাল নেহরু ঘোড়ায় চেপে এই উপত্যকা পার হয়েছিলেন— ইতিহাসের পাতায় যা আজও জ্বলজ্বল করে।
6
10
সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত যমজ মন্দির ‘লাখাং কারপো’ (সাদা মন্দির) এবং ‘লাখাং নাগপো’ (কালো মন্দির) এখানকার দর্শনীয় স্থান। কিংবদন্তি অনুযায়ী, তিব্বতি রাজা সংসেন গাম্পো একটি সাদা ও একটি কালো পায়রা ছেড়েছিলেন— তারা যেখানে বসেছিল, সেখানেই গড়ে ওঠে মন্দির দু’টি।
7
10
ঊনবিংশ শতকের ওয়াংচুক লো জং দুর্গও দেখার মতো। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য হা ভ্যালি স্বর্গ। ২৫০-এরও বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ, ভুটানের জাতীয় ফুল ‘নীল পপি’, বিরল হিমালয়ান মোনাল, সাটির ট্রাগোপান পাখি, স্নো লেপার্ড— সবই এখানে দেখতে পাওয়া যায়।
8
10
ভারতীয়দের এখানে আসার জন্য লাগে না ভিসা, প্রয়োজন শুধু বৈধ পাসপোর্ট বা ভোটার আইডি এবং হা ভ্যালি যাওয়ার রুট পারমিট।
9
10
বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে ফুন্টশোলিং হয়ে স্থলপথে যাওয়া যায়। কলকাতা, দিল্লি, গুয়াহাটি থেকে পারোতে সরাসরি বিমান চলাচল করে৷
10
10
মার্চ থেকে মে এই সময় রডোডেনড্রন ফোটে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এই সময় পরিষ্কার আকাশ যারা ট্রেকিং করতে চাইছেন তাদের জন্য অনুকূল। এখানে বড় হোটেল নেই৷ স্থানীয় কৃষক পরিবারের ঐতিহ্যবাহী ফার্মস্টেতেই থাকার আসল মজা।