আজকাল ওয়েবডেস্ক: রান্নাঘরে খাওয়ার তেলের ব্যবহার কমানোর জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর এই আহ্বানে অনেকেই কিছুটা অবাক হয়েছেন।

জ্বালানি তেল সাশ্রয় বা সোনা কেনা কমানোর বিষয়টি সাধারণ মানুষ সহজেই বোঝেন। কারণ, এই দুটি জিনিসই বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আমদানি করতে হয়। এমনকী এর প্রভাব পড়ে দেশের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে। কিন্তু রান্নার তেল নিত্যপ্রয়োজনীয়। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার পিছনে এক জটিল অঙ্ক রয়েছে। 

২০২৫-২৬ সালে ভারত প্রায় ১৯.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে শুধু খাওয়ার তেল আমদানিতে। দেশের কোষাগার থেকে এই বিপুল অঙ্কের বিদেশি মুদ্রা বেরিয়ে যাওয়া সরাসরি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। খাওয়ার তেলের আমদানি কমলে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমবে। পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রার বাজারে ভারতীয় টাকার অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

অবশ্য মোদির এই বার্তার লক্ষ্য শুধু অর্থনীতি নয়, জনস্বাস্থ্যও বটে। ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারের অর্থনীতি টালমাটাল। এই পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় আমদানিতে রাশ টানতে চাইছে সরকার। ‘মন কি বাত’-এর মতো অনুষ্ঠানে আগেও প্রধানমন্ত্রী বারবার পরিমিত তেল খাওয়ার কথা বলেছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত তেল ও ভাজাভুজি খাওয়ার অভ্যাস বর্তমানে ঘরে ঘরে অসুখ ডেকে আনছে। স্থূলতা, হৃদরোগ আর ডায়াবিটিসের হাত থেকে বাঁচতে তেল কমানো জরুরি। তবে তার মানে এই নয় যে, রান্না থেকে তেল রাতারাতি ভ্যানিশ করে দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রান্নার কায়দা বদলালেই কেল্লাফতে। সেদ্ধ খাবার, গ্রিল করা বা প্রেশার কুকারে রান্নার অভ্যাস করলে তেলের খরচ অনেক কমে যায়।

তাঁদের মতে, তেল ছাড়াও খাবারে স্বাদ আনা সম্ভব। দই, টমেটো, বাদাম বাটা কিংবা বিভিন্ন ভেষজ মশলা ব্যবহার করে সুস্বাদু রান্না করা যায়। এয়ার-ফ্রাইংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিও এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

অর্থাৎ, পরিমিতিবোধ ও সচেতনতা। মোদির বার্তার সমাধান আছে কোটি কোটি সাধারণ মানুষের হেঁশেলেই। সাধারণ মানুষ যদি একটু সচেতন হয়ে তেলের ব্যবহার কমান, তবে বিদেশি মুদ্রাও সাশ্রয় হবে, আর দেশবাসীও থাকবেন সুস্থ। মোদির লক্ষ্য ঠিক এখানেই- এক ঢিলে দুই পাখি মারা।