আজকাল ওয়েবডেস্ক: মেয়েদের লেখাপড়া করার দরকার নেই। বাড়িতেই থাকুক তারা। সাহায্য করুক বাড়ির কাজে। লেখাপড়া করে মেয়েদের বিশেষ কোনও লাভ নেই। এমনই মন্তব্য করলেন খোদ বিহারের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি। যে মন্তব্য ঘিরে রীতিমতো নিন্দার ঝড় বয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমনকী রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিহারের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারির বক্তব্য, মেয়েদের বাড়িতে থেকেই বাড়ির কাজে সাহায্য করা উচিত। পড়াশোনা করে বিশেষ লাভ হবে না। বাইর বেরিয়ে প্রতিবাদ করা এবং জনসমাগমেও থাকার প্রয়োজন নেই। 

 

শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ বলেন, "এত লেখাপড়া করার প্রয়োজন কী? আমাদের ঘরের মেয়েরা আমাদের শক্তি। আমাদের সমৃদ্ধির ভিত্তি। মেয়েদের কী প্রয়োজন রাস্তায় নামার! যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নারী শক্তি মণ্ডলের জন্য লড়ছেন।" 

 

এই সময়েই একজন পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, মেয়েদের অধিকার রয়েছে পড়াশোনা করার। তখন শিক্ষামন্ত্রী ফের বলেন, "আপনারা আপনাদের অধিকার এমনিই পাবেন।" 

 

ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর একজন লিখেছেন, "আর্টিকেল ২১এ- শিক্ষার অধিকার, এই অনুযায়ী ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে সকলের বিনামূল্যে পড়াশোনা করার অধিকার রয়েছে। দারিদ্র্য, জাত, ধর্ম, লিঙ্গ নির্বিশেষে কেউ যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়।" 

 

আরেকজন লিখেছেন, "শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে ভুলভাবে ছড়ানো হচ্ছে। উনি মেয়েদের লেখাপড়ার প্রয়োজন নেই, সেই কথা বলতেই চাননি। তিনি বলতে চেয়েছেন, পথে নেমে শিক্ষার জন্য মেয়েদের লড়াইয়ের প্রয়োজন নেই। বরং প্রধানমন্ত্রীই নারী শিক্ষার প্রসারে কাজ করছেন।" 

 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের প্রধান উদ্যোগগুলোর অন্যতম হল 'বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও'। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে। যা শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা ও স্কলারশিপের জন্য রয়েছে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা। উচ্চশিক্ষার মধ্যে টেকনিক্যাল এডুকেশনে মেয়েদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। 'উড়ান' প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েদের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে।