আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলাগা ভেত্রি কাজাগমের প্রধান তথা অভিনেতা বিজয়ের বাসভবনে রহস্যময় এক ব্যক্তির আগমন ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলে।
সূত্রের খবর, একটি ইনোভা গাড়িতে এসে এক ব্যক্তি শুক্রবার সকালে নিজের মুখ ঢেকে বিজয়ের বাড়িতে প্রবেশ করেন। তবে তাঁর পরিচয় এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে আবেদন করেন টিভিকে প্রধান।
সূত্রের দাবি, এদিন বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছেন বিজয়। রহস্যময় ব্যক্তির আগমন এবং তার পরপরই রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন এই দুই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।
তবে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণ এখন অনেকটাই বিজয়ের পক্ষেই যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় টিভিকে-র বিধায়কের সংখ্যা ১০৭।
এর সঙ্গে কংগ্রেস তাদের পাঁচজন বিধায়কের সমর্থন ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ বৈঠকের পর সিপিআই এবং সিপিএমও টিভিকে-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই দুই দলেরই রয়েছে দু’জন করে বিধায়ক। এছাড়াও, ভিসিকে-র দুই বিধায়কও বিজয়ের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। সব মিলিয়ে এই জোটের সমর্থন সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১১৮। যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগারকে ছুঁয়ে ফেলছে।
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয়লাভ করে বিজয়ের দল টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ১০৮টি আসন পেলেও, ২৩৪ সদস্যবিশিষ্ট বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার (ম্যাজিক ফিগার) চেয়ে টিভইকে-র আসন সংখ্যা ১০টি কম ছিল।
ডিএমকে-র জোটসঙ্গী দল কংগ্রেস, টিভিকে-কে সমর্থন জানিয়েছে এবং বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি জানাতে তিনি দু'বার রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
তবে তাঁকে জানানো হয়েছে যে, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করে পুনরায় ফিরে আসতে হবে। এটি ছিল নির্বাচনে টিভিকে-এর প্রথম অংশগ্রহণ। অভিষেকেই এই দল ১০৮টি আসন পেয়ে রাজনৈতিক পরিসরে নিজেদের অবস্থান সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
টিভিকে-র বিপুল ভোট পাওয়া আসেল পুরনো দলগুলোর বিরুদ্ধে জনগণের দেওয়া 'গণরায়' হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র সম্ভাব্য জোট গঠন নিয়ে যখন জোর গুঞ্জন চলছে, তখন বিজয় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে- যদি সত্যিই এমনটা ঘটে, তবে তাঁর দলের ১০৭ জন বিধায়ক একযোগে পদত্যাগ করবেন।
এমনকী ডিএমকে প্রধান এবং তামিলনাড়ুর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন যখন প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, বিজয়কে সরকার গঠনের দাবি জানানোর সুযোগ দেওয়া উচিত, তার পরেও আড়ালে ওই দুই দল জোট গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।















