আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে থেকে শুরু করে টিভিকে, পুরনো হোক বা নতুন, তামিলনাড়ুর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নামের শেষে সচরাচর ইরনেজি ‘কে’ (K) অক্ষরটি দেখা যায়। বিষয়টি নিছক কাকতালীয় মনে হতে পারে, কিন্তু এই অক্ষরের বারবার ব্যবহার রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাস, ভাষা এবং দ্রাবিড় আন্দোলনের ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, এই ‘কে’ অক্ষরটি তামিল শব্দ ‘কাজগাম’-কে নির্দেশ করে, যার অর্থ হল ‘ফেডারেশন’, ‘সমিতি’ বা ‘সংগঠন’। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে দ্রাবিড় আন্দোলনের উত্থানের সময় এই পরিভাষাটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সেই সময় থেকেই এটি তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে রয়েছে।
এর অন্যতম প্রাচীন এবং প্রভাবশালী একটি উদাহরণ হল ‘দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজগম’ (ডিএমকে)। ১৯৪৯ সালে পেরিয়ার ই. ভি. রামাসামির নেতৃত্বাধীন ‘দ্রাবিড় কাজগাম ’ আন্দোলন থেকে বেরিয়ে এসে সি. এন. আন্নাদুরাই এই দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তামিল ভাষায় ‘মুন্নেত্র কাজগাম’-এর অর্থ হল ‘প্রগতিশীল ফেডারেশন’। দলটির এই নামটি দ্রাবিড় আন্দোলনের মূল উপজীব্য অর্থাৎ সমাজ সংস্কার এবং আঞ্চলিক পরিচয়ের রাজনীতিকেই প্রতিফলিত করেছিল।
এর বহু বছর পর, ‘অল ইন্ডিয়া অন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজগম’ (এআইএডিএমকে)-ও একই ধরনের নাম-কাঠামো গ্রহণ করে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা এম. জি. রামচন্দ্রন ডিএমকে থেকে বেরিয়ে এসে যখন এই দলটি প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তিনি দলের নামের মধ্যে ‘মুনেত্রা কাজগম’ অংশটি বহাল রাখেন। এর মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন দ্রাবিড় রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে আদর্শগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দেন, তেমনি অন্যদিকে ‘অন্না’ নামেই সমধিক পরিচিত আন্নাদুরাইয়ের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এমনকি নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। অভিনেতা বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজগম’ (টিভিকে)-ও তাদের নামের মধ্যে ‘কাজগম’ শব্দটি ব্যবহার করেছে, এটিই প্রমাণ করে যে, তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সংহতি ও আঞ্চলিক গর্বের সঙ্গে এই পরিভাষাটি কতটা গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
তবে, তামিলনাড়ুর রাজনীতির ক্ষেত্রে নামের শেষে থাকা প্রতিটি ‘কে’ অক্ষরই যে ‘কাজগম’-কে নির্দেশ করে, এমনটা নয়। উদাহরণস্বরূপ, ‘পাট্টালি মক্কাল কাচি’ (পিএমকে)-এর ক্ষেত্রে ‘কে’ অক্ষরটি এসেছে তামিল শব্দ ‘কাচি’ থেকে, যার অর্থ হল ‘দল’। ভাষাগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, নামকরণের এই শৈলীটি রাজ্যের তামিল-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতি পক্ষপাতকেই প্রতিফলিত করে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নামকরণের এই ধরণগুলো তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দ্রাবিড় আন্দোলনের সুদূরপ্রসারী প্রভাবকেই তুলে ধরে। কেবল আদর্শগত গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, দলের নামে তামিল শব্দাবলির ব্যবহার এখন আঞ্চলিক গর্ব, সামাজিক ন্যায়বিচার-ভিত্তিক রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।















