থ্যালাসেমিয়া এবং এর প্রতিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ৮ মে বিশ্বব্যাপী থ্যালাসেমিয়া দিবস পালন করা হয়।
2
10
থ্যালাসেমিয়া হল একটি বংশগত রক্তের রোগ। বাবা-মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে আসে এই রোগ। এই অসুখে আক্রান্ত হলে শরীরে ঠিকমতো হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না। ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছতে পারে নামোগ্লোবিন কমে গেলে শরীরে রক্তাল্পতা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয়।
3
10
চিকিৎসকদের মতে, বিশ্বের কিছু দেশে থ্যালাসেমিয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইরান, সৌদি আরব, গ্রিস, ইতালি এবং সাইপ্রাসের মতো দেশে এই রোগ বেশি দেখা যায়।
4
10
দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বহু মানুষ এই রোগের 'বাহক' বা ক্যারিয়ার। অর্থাৎ তাঁদের শরীরে রোগের জিন থাকে, কিন্তু অনেক সময় তাঁরা নিজে অসুস্থ হন না।
5
10
সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল, যদি দু’জন থ্যালাসেমিয়া বাহকের মধ্যে বিয়ে হয়, তাহলে তাঁদের সন্তানের গুরুতর থ্যালাসেমিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই অবস্থাকে বলা হয় 'থ্যালাসেমিয়া মেজর'। এমন শিশুদের ছোট বয়স থেকেই বারবার রক্ত নিতে হয়। অনেক সময় সারা জীবন চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়।
6
10
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব এলাকায় আগে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশি ছিল, সেখানে থ্যালাসেমিয়ার জিন বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ থ্যালাসেমিয়ার জিন থাকা মানুষদের শরীরে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে কিছুটা প্রাকৃতিক সুরক্ষা তৈরি হত। তাই প্রজন্মের পর প্রজন্মে এই জিন টিকে গিয়েছে।
7
10
এছাড়াও আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে বা একই পরিবারের রক্তের সম্পর্কের মধ্যে বিয়ে হলে এই রোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
8
10
মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু এলাকায় এই ধরনের বিয়ের চল বেশি থাকায় সেখানে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও বেশি।
9
10
ভারতে প্রতি বছর বহু শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মায়। কিন্তু এখনও অনেক মানুষ জানেন না যে তাঁরা এই রোগের বাহক। তাই চিকিৎসকেরা বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় কেউ এই রোগের বাহক কিনা।
10
10
চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতা বাড়ানোই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় উপায়। সময়মতো পরীক্ষা করলে ভবিষ্যতে অনেক শিশুকে এই গুরুতর রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব।