আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিহার জেলের মশলাদার ও তৈলাক্ত খাবার মুখে তুলতে পারছেন না, এই অভিযোগে গত ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে প্রায় অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন ভারতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে বন্দি মার্কিন নাগরিক তথা প্রাক্তন সেনানি ম্যাথু অ্যারন ভ্যানডাইক। খাবারের এই সমস্যার কারণে তাঁর স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটেছে দাবি করে, এবার জেলের ভেতরেই নিজের পছন্দমতো খাবার নিজে রেঁধে নেওয়ার অনুমতি চেয়ে দিল্লির একটি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। 

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-র হাতে গ্রেপ্তার হওয়া এই মার্কিন নাগরিকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ভারতীয় খাবারের সাথে অভ্যস্ত না হওয়ায় জেলের খাবার খেয়ে মারাত্মক শারীরিক অস্বস্তি, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছেন ম্যাথু। গত মে মাস থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত শুধুমাত্র সয়াবিন দুধ এবং তরল জাতীয় কিছু খেয়ে বেঁচে থাকার কারণে তাঁর শরীরের ওজন প্রায় ১৪ কেজি কমে গেছে।

এই চরম স্বাস্থ্য সংকটের হাত থেকে বাঁচতে ম্যাথু আদালতের কাছে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন, যেখানে তিনি নিজের সেলে একটি ইন্ডাকশন ওভেন, রান্নার পাত্র এবং সবজি কাটার প্লাস্টিক চপার রাখার অনুমতি চেয়েছেন। একই সাথে তিনি জেলের ভেতরেই আমেরিকান ধাঁচের ডায়েট বা খাবার তৈরির জন্য রেড মিট, মুরগি, চিংড়িসহ মাছ, ডাল, ভাত, পাস্তা, আলু, পেঁয়াজ, মাখন, অলিভ অয়েল, সয়াবিন দুধ এবং লেবু-মরিচের গুঁড়ো মসলা পাওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। 

আবেদনের সাথে এও জানানো হয়েছে যে, এই রান্নার যাবতীয় সরঞ্জামের খরচ তাঁর পরিবার বহন করতে প্রস্তুত। তিহার জেল কর্তৃপক্ষকে এই অদ্ভুত ও বিশদ আবেদনের জবাব দেওয়ার জন্য আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত সময় দিয়েছেন অতিরিক্ত দায়রা বিচারক প্রশান্ত শর্মা। অন্যদিকে, এই আবেদনের বিষয়ে কোনও  লিখিত জবাব দেওয়া প্রয়োজন নেই বলে আদালতকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে এনআইএ।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ মিজোরাম সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অপরাধে ম্যাথু ভ্যানডাইক এবং আরও ছয়জন ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীদের দাবি, এই দলটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করে মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে ভারতকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র রচনার পাশাপাশি উগ্রপন্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ড্রোনসহ আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। 

অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন ম্যাথু। আপাতত আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং জেলের খাবার নিয়ে তাঁর এই অভিনব আইনি লড়াইয়ের জল কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।