আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বী জেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষিকা ও এক অভিভাবকের মধ্যে তুমুল মারামারি এবং জুতোপেটার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে মারাত্মকভাবে ভাইরাল হয়েছে। মুরাতগঞ্জ ব্লকের ‘টিকা কা পুরা’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ঘটনাটি ইতিমিধ্যেই শিক্ষা দপ্তরে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে এবং এই বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে। জানা গেছে, অনুজ নামের এক অভিভাবক তাঁর সন্তানের টিসি নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষিকা অনিতা দেবীর সাথে তাঁর বচসা শুরু হয়। শিক্ষিকা দাবি করেন, সার্টিফিকেট প্রসেস করার জন্য শিক্ষার্থী এবং তার আধার কার্ড সশরীরে স্কুলে নিয়ে আসতে হবে, যার জবাবে অভিভাবক জানান যে তিনি আধার কার্ড আগেই জমা দিয়ে দিয়েছেন।

কথাকাটাকাটি চলাকালীন সেখানে উপস্থিত অন্য এক ব্যক্তি পুরো ঘটনাটি নিজের মোবাইলে রেকর্ড করতে শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত ঘোরালো হয়ে ওঠে। ক্যামেরার সামনেই দুজনের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি চলতে থাকে এবং ভিডিও করতে থাকা ব্যক্তিটি ব্যঙ্গাত্মক সুরে শিক্ষিকাকে মারধর চালিয়ে যাওয়ার কথা বলতে থাকেন। অভিযোগ উঠেছে, পুরো ঘটনাটি ভিডিও করা হচ্ছে বুঝতে পেরে প্রধান শিক্ষিকা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অভিভাবকের মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছাড় মারেন। এরপর ফোনটি কুড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেই দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে শিক্ষিকা মাটিতে পড়ে যান। এর পরপরই তিনি রাগের মাথায় নিজের পায়ের জুতো খুলে সবার সামনে ওই অভিভাবককে একের পর এক আঘাত করতে শুরু করেন।

বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর মৌলিক শিক্ষা কর্মকর্তা কমলেন্দ্র কুশওয়াহা নিশ্চিত করেছেন যে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মুরাতগঞ্জ ব্লকেরই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন যে, ঘটনার পর দুই পক্ষই স্থানীয় থানায় গিয়েছিল এবং সেখানে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে পারস্পরিক ক্ষমা প্রার্থনার একটি কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দোষী কে, তা ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট আসার পরেই স্পষ্ট হবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।